খবরাখবর

আফরিন আজহার ফিজা (১৭), সেগুনবাগিচা

Published: 2019-08-18 19:51:51.0 BdST Updated: 2019-08-18 19:51:51.0 BdST

ফকিরাপুলের গরম পানির গলির একমাত্র বেসরকারি প্রাথমিকটি বন্ধ হওয়ায় পড়াশোনা আটকে গেছে গলির প্রান্তিক শিশুদের।

এসব শিশুর মায়েরা অফিসে খাবার সরবরাহের কাজ করায় সন্তানদের দূরের স্কুলে নিয়ে যেতে পারে না।

ঘড়ির কাটায় দেড়টা। ফকিরাপুলের প্রিন্টিং প্রেস পাড়ায় ব্যস্ততা চরমে। কেউ ছুটছে কাজের তাড়ায়,কারও কারও হাতে আবার খাবারের বাক্স। কেউ এগিয়ে দিচ্ছে বক্স,আবার কেউ বাক্সে ভরছে খাবার। সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই দৃশ্য।

মার্কেটের কর্মচারীদের জন্য বাসায় বাসায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ রান্না‍র কর্মজজ্ঞ।

রান্না শেষে বাক্সে খাবার ভরে দোকানে দোকানে সাপ্লা‌‌ই করে নিজেরাই। এই ব্যস্ততায় ছেলেমেয়েদের দিকে তাকানোর সময় নে‌ই তাদের বলে জানায় তারা।

ফকিরাপুলের গরম পানির গলির বাসিন্দা শিল্পী খাতুন বলেন, “ রান্না-বান্না করি আরকি। করে মানুষ খাওয়াই।এইভাবে জীবন চলে? এখন পর্যন্ত বাচ্চা না খাইয়া রইছে।”

এই এলাকার অন্য পরিবারের সাথে কথা বলেও জানা যায়, ‘প্রান্তিক শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’ নামে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে এই এলাকার শিশুরা পড়ত।

‍সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় শিশুদের ‍শিক্ষা দেওয়া হতো বলে জানায় অনেকে।

গত ডিসেম্বরে সেই শিক্ষাকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে অনেক শিশুর লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ফকিরাপুলের এক নম্বর গলির বাসিন্দা মাজেদা বেগম বলেন, “গলির মুখে একটা স্কুল ছিল। স্কুলটা অনেক ভালো ছিলে। বাচ্চাদের সেখানে রেখে আসতাম। কোন চিন্তা ছিল না।

“স্যারেরাও অনেক ভালো ছিল।”

এই শিশু শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রান্তিক শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর নার্গিস করিম জানান, বাসা ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাকেন্দ্রটি চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের আর নাই।

স্কুলের সামান্য আয় দিয়ে শিক্ষকদের বেতন, বাসাভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না বলে জানান তিনি।


Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত