খবরাখবর

আব্দুল হামিদ (১৭), বগুড়া

Published: 2019-08-17 20:50:54.0 BdST Updated: 2019-08-17 20:50:54.0 BdST

নয় বছর বয়সী  শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু কৃষ্ণ। বই খাতা ছেড়ে হাতে নিয়েছে সংসারের বোঝা।

তার ডান পায়ের চেয়ে বাম পা অনেক ছোট। কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়।

প্রতিবন্ধী নিবন্ধন কার্ড পেলেও ভাতা কার্ড পায়নি বলে জানায় তার বাবা। 

কৃষ্ণের বাবা বলেন, “আমি অসুস্থ হওয়ার কারণে লেখাপড়া বাদ দিয়ে আমার ছেলেকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। জানি এ কাজ অনেক কষ্টের তারপরও পাঠাতে হয়। না হলে আমরা চলব কী করে।” 

তার মায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কৃষ্ণকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাইছিলাম কিন্তু ওর কপাল যে এরকম হবে ভাবতেও পারি নাই।

“কৃষ্ণ আমাকে বলছিল চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তার। কিন্তু সেটা পূরণ হবে না বলেই ধরে নিয়েছে সে।”

অভাবের সংসার বলে তার মামি কাজের জন্য নিয়ে যায় তাকে। বদলে যায় প্রতিদিনের দিনলিপি। মামির বাড়ি থেকেই কাজ করে সে।

ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় কৃষ্ণ।

এক কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে চাল ভাঙানোর দোকানে যায় সে।

তার কাজ-ধানের কুড়ো আলাদা করে বস্তায় ভরা। মেশিন থেকে বের হওয়া গরম চালও টানতে হয় তাকে। শুধু তাই নয়, তাকে আরও অনেক কাজ করতে হয়।

কাজ শেষে ফিরতে ফিরতে রাত নামে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও সাত মাস ধরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছে কৃষ্ণ।

সপ্তাহ শেষে ৫০০/ ৬০০ টাকা মজুরি জোটে তার। এ টাকা থেকেই প্যারালাইজড বাবাকে চিকিৎসা করায়। মাকে সাহায্য করা ছাড়াও ছয় বছর বয়সী ভাইকেও দেখভাল করতে হয় তাকে।

এখানেই তার গল্প শেষ নয়। ঘাড়ে যে আরও বোঝা চেপে আছে। ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা ঋণও শোধ করতে হয় কৃষ্ণকেই।

ধুনট উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর অফিসার কাফি হোসেন আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি শিশু কৃষ্ণের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে কার্ড করে দেব।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত