খবরাখবর

শাহিন আলম (১৭), খুলনা থেকে

Published: 2019-07-03 19:13:48.0 BdST Updated: 2019-07-03 19:18:43.0 BdST

খুলনায় সুন্দরবন সংলগ্ন একটি গ্রামের মুন্ডা সম্প্রদায়ের শিশুদের লেখাপড়া শেখাতে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় এক তরুণ। নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ছোট্ট স্কুল। নাম দিয়েছেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক নেতা বিরসা মুন্ডার নামে, বিরসা মুন্ডা প্রভাতী স্কুল।

জেলার দক্ষিণের কয়রা উপজেলা সদর  থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে সুন্দরবন সংলগ্ন ৬নং কয়রা ইউনিয়নের মুন্ডাপাড়ায় এ স্কুলটি চালু করেছেন আশিকুজ্জামান আশিক নামের এক যুবক।

তিনি বলেন, ওই গ্রামে বসবাসরত পাঁচ শতাধিক মুন্ডা আদিবাসীদের দুই শতাধিক শিশুকে দেশের প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।

সুন্দরবনে মাছ, মধু ও কাঠ সংগ্রহ করতে যেয়ে যে সকল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়াল বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছেন তাদের বিধবা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভাগ্যন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং মানবিক কাজও করে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করা আশিক।

মুন্ডা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি উষা রাণী মুন্ডা বলেন, “আমাদের এই সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। শিশুদের জন্য নেই আলাদা স্কুল বা পাঠ্য বইয়ের ব্যবস্থা।

“আশিক এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি, আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের পূর্বের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছে।“

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ভালো কিছু করবে বলে তিনি মনে করেন।

স্কুলটির শিক্ষিকা বাসন্তী মুন্ডা বলেন, “ভাষা-সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়ার কারণে প্রচলিত পাঠ্য পুস্তকের সঙ্গে আমাদের শিশুরা খাপ খাওয়াতে পারত না। মাঝ পথে ঝরে পড়ে অনেকে।

“যাতে শিশুরা মাঝ পথে ঝরে না যায়  তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।“

কথা হয় অজয় মুন্ডা, সুব্রত মুন্ডা ও সুস্মিতা মুন্ডা নামের তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

জানায়, নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরে তারা অনেক খুশি। তারা সবাই লেখাপড়া শিখে গ্রামের অন্য ছেলে মেয়েদের মতো হতে চায়।

প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান আশিক হ্যালোকে বলেন, “এ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ বাবা মা নিরক্ষর হওয়ায় তারা শিশুদের পড়ালেখার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন না।

“আমাদের স্কুলে একজন শিক্ষিকা আছেন। তার কাছ থেকে বাচ্চারা দেশের ইতিহাস জানার পাশাপাশি মুন্ডা সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছে।

সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের নিজস্ব ভাষার কোনো বই নেই। তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট বা উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য নিয়ে।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত