খবরাখবর

শারমিন আক্তার রিয়া (১৪), ইলমা আক্তার (১৬), ইরফান শেখ (১৬),ঢাকা

Published: 2018-09-12 21:56:08.0 BdST Updated: 2018-09-12 22:12:58.0 BdST

কয়েক বছর ধরে রাজধানীর কল্যাণপুরে বস্তিবাসী একটু বৃষ্টিতেই জলজটে ভুগলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সিটি করপোরেশন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আব্দুল মান্নান হ্যালোকে বলেন, “দায় এড়াতে পারি না।”

তবে এই জলাবদ্ধতা নিরসন না করতে পারার জন্য ঢাকা ওয়াসার বাজেট স্বল্পতাকে দায়ী করেন।  

তিনি বলেন, “আশেপাশের খালগুলো সংস্কার না করার কারণেই মূলত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খালগুলো খনন করার দায়িত্ব ওয়াসার।

“আমরা ওয়াসাকে খাল খননের জন্য তাগিদ দিয়ে থাকি। কিন্তু তারা জানায়, ‘বরাদ্দ না থাকায়’ খালগুলো খনন করতে পারছেন না তারা। এই জন্যই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

“আমরা সিটি করপোরেশনও চাই যাতে জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই সমস্যা নিরসনে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

এই জননেতার ভাষ্যে, ১২ ও ১১ নং ওয়ার্ডের শেষ সীমায় বৃষ্টিতে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আনসার ক্যাম্প এলাকায় এক জায়গায় চারদিক থেকে পানি এসে জমা হয়। এতে দ্রুত পানি কমে না। এতে আসলেই জলাবদ্ধতা হয়ে জনগণের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

বুধবার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তিতে গেলে ৪নম্বর বস্তির রোজিনা বেগম বলেন, “আমি ১৩ বছর যাবত এই বস্তিতে আছি। বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে আমাদের গলির রাস্তায় পানি উঠে যায়। অনেক সময় ঘরের মধ্যেও পানি উঠে। এ সময় রান্না করতে সমস্যায় পড়তে হয়।

৪ নম্বর বস্তির ৪ নং গলির ৬৫টি ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০টি ঘরে পানি ঢুকে যায় বলে জানান তিনি।

৩২ বছর ধরে বস্তিতে বাস করছেন বলে জানান বাচ্চু হাওলাদার (৬৫)। তিনি বলেন, “বর্ষায় মসজিদের পাশে নালা থেকে বিলের পানি বস্তিতে ঢুকে পড়ে। পানি নিষ্কাশন পাইপ ময়লা দিয়ে ভর্তি থাকার কারণে ড্রেনের পানি যেতে পারে না।”

সিটি কর্পোরেশনের কোনো লোক নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার করে না বলে এই বাসিন্দার অভিযোগ।

সিটি কর্পোরেশন যদি নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করতো, তাহলে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না বলে মনে করেন তিনি।

ওই বস্তির তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ফাতেমা আক্তার বলে, “রাস্তায় পানি জমলে আমি স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করতে পারি না।

“অনেক সময় হাঁটু পর্যন্ত কাপড় তুলে স্কুলে গেলেও পা পিছলে পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়ে যায়।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তারা নানা রোগেও আক্রান্ত হন। ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে গেলে সেই পানি দিয়ে হাঁটার কারণে পায়ে নানা রোগ দেখা দেয়।

এলাকার টিউবওয়েলের পানিও নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করে মুক্তা বেগম নামে এক বাসিন্দা বলেন, “ওই সময়টাতে খাওয়ার পানির বেশি সমস্যা হয়। পানি কিনে খেতে হয়। টিউবওয়েলের পানি ফুটিয়ে খেলেও পেটের সমস্যা হয়।”

নিজ উদ্যোগে বালি ফেলে রাস্তা উঁচু করলেও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মেলেনি বলে জানান তারা।

এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায় এলাকাবাসী।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত