শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ইউনিসেফের

“ওই জরিপে ১৪ হাজার শিশু এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৩৭ হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। ”
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ইউনিসেফের

শিশুরা বলছে তাদের জন্য সরকারি ব্যয় বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই ওঠে এসেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফের এক জরিপে।

ওই জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি দশজনে নয়জন শিশুই বলেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ শিশুদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন খাতগুলোতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ জানিয়েছে, ওই জরিপে ১৪ হাজার শিশু এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৩৭ হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। যেখানে জাতীয় বাজেট সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুরা জাতীয় বাজেটের জন্য তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো ইউনিসেফের ‘জেনারেশন পার্লামেন্ট’ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পোস্টও করছে।

শিশু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, “শিশুদের আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু জানার ও চাওয়ার এবং তাদের আশা আকাঙ্খা প্রকাশ করার অধিকার আছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে তাদের কথা শোনা এবং তাদের সাথে অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত হওয়া উচিৎ আমাদের।”

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, “শিশুদের জীবনের প্রতিটি দিক কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই জরিপের ফলাফল দেখায় যে, তারা এ ব্যাপারে সচেতন এবং উদ্বিগ্ন। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে জাতীয় নেতারা তাদের কথা শোনেন।”

বিজ্ঞপ্তিটিতে ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, মহামারির কারণে ১৮ মাস স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ক্ষতির বিষয়টিই জরিপে অগ্রাধিকার পায়। এতে অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৮৫ শতাংশেরও বেশি বলেছে, শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য শিক্ষা খাতে আরও বেশি ব্যয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিশুদের বেশিরভাগ আরও বলেছে, যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরী তা হচ্ছে শিক্ষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পেছনে বিনিয়োগ করা।

১৩ বছর বয়সী গার্গী তনুশ্রী পাল বলে, “আমি চাই বাজেটে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হোক শিক্ষা খাতে, যার মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলকে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হোক। নাহলে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার মত সমস্যা দূর করা যাবে না।”

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৯০ শতাংশেরও বেশি জানায়, সবাইকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের এক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১৭ বছর বয়সী ইবনে আল রামিজ জানায়, “এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হোক। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রশিক্ষিত নার্স, প্রশিক্ষিত দায়ী ও উন্নত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা হোক।”

ইউনিসেফ শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বাজেটে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশের শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এখন বিনিয়োগ করা হলে তা প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং দেশের ভবিষ্যত সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io