‘জুমার খুতবায় বাল্যবিয়ে বন্ধের প্রচারণা’ (ভিডিওসহ)

'একই সঙ্গে প্রতি শুক্রবারের জুমার খুতবায় আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দিয়েছি  বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে আলোচনা করতে।'

এ বছরের গত দশ মাসে ৩৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন পটুয়াখালির দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের নেওয়া নানা উদ্যোগ, সফলতা ও পরিকল্পনা নিয়ে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

হ্যালো: বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরিতে প্রশাসন কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?

মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে সরকার বদ্ধ পরিকর এবং উপজেলা পরিষদ একই ধরনের ভূমিকা পালন করে। আমাদের উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বেশ কিছু কমিটি আছে। প্রতি মাসে যার সভা অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়া প্রতি দুই মাস পর পর আমরা বাল্যবিয়ে নিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করি। আমাদের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং তথ্য সেবা প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতি শুক্রবারের জুমার খুতবায় আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দিয়েছি বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে আলোচনা করতে। আমি নিজেও বাল্যবিয়ে নিরোধ নিয়ে আলোচনা করি, মানুষকে সচেতন করি৷ এছাড়া আমাদের যে বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন আছে যারা বাল্যবিয়ে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে আমরা পথনাটক, গান অথবা কৌতুকের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের কুফলকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

হ্যালো: ঠিক কী কী কারণে বাল্যবিয়ে বেশি হয় বলে আপনি মনে করেন?

মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল: আসলে দশমিনা একটি দারিদ্র্য পীড়িত ও অশিক্ষায় জর্জরিত একটি অঞ্চল। এখানে মানুষ এখনও মনে করে যে ছেলে সন্তান তার পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু একটি মেয়ে তা পারে না। এজন্য একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চায়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে অনেক সময় পড়াশোনাকে ব্যয় বহুল হিসেবে ধরা হয়৷ সেক্ষেত্রে অসচ্ছল অভিভাবক যারা রয়েছেন তারা মনে করেন বিয়ে দিলে হয়ত এই ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। এছাড়া মেয়েদের নিরাপত্তার একটি বিষয় রয়েছে। অনেক সময় নানা কারণে মেয়েকে নিয়ে অনিরাপদ বোধ করেন অভিভাবকেরা। সেক্ষেত্রে তাকে কোনো একজন পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারলেই যেন তারা মুক্তি পান৷

হ্যালো: আপনি এ পর্যন্ত কতগুলো বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন? বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?

মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল: দশমিনায় আমরা আমাদের রেকর্ড অনুসারে এই পর্যন্ত ৩৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। সেটা আমার যোগদানের এই দশ মাসের হিসেব। আগের হিসেব আমার করা হয়নি। অবশ্যই আমি বলব আমরা শতভাগ বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পারিনি।বিভিন্ন সময় এলাকাবাসীরা আমাদের খবর দেওয়ার ফলে আমরা সেখানে ছুটে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। এমনও হয়েছে আমরা গভীর রাতে বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান চালিয়েছি৷ আমি বলব যে আমাদের টোটাল বাল্যবিয়ে বন্ধের হার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ।এলাকায় তরুণ যারা রয়েছেন তাদের কাছ থেকে আমরা যথেষ্ট সমর্থন পাই। বয়স্কদের একটু বোঝাতে হয়েছে, প্রথমে তারা মেনে নিতে চান না।

হ্যালো: ইতোমধ্যে বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে এমন কিশোরীরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা কেমন হতে পারে?

মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল: আমরা দুই ক্ষেত্রেই (বাল্যবিয়ে) যেটা বন্ধ করতে পেরেছি কিংবা পারিনি সেসব অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোবাইল নম্বর, ঠিকানা রেখেছি এবং সেটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা দিয়েছি। এছাড়াও যারা আমাদের এনজিও কর্মী রয়েছেন তাদেরকেও বলেছি এই শিশুদের ফলোআপ করার জন্য যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: পটুয়াখালী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com