কথায় কথায়

মুনতাসির রাব্বী (১৬), রংপুর 

Published: 2017-07-05 20:46:51.0 BdST Updated: 2017-07-05 20:57:59.0 BdST

'শাহেদ শাহরিয়ার'একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব।

সবশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিইউ_সেন্সরড দলের সদস্য হয়ে অংশ নিয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আসর এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস ২০১৭ তে।

প্রতিযোগিতায় ৪৫টি দেশের ১২৮টি টিমের সাথে লড়াই করে তার দল হয়েছে ৫৬তম। এছাড়াও তিনি ২০১৬ সাল থেকে ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং(NHSPC) প্রতিযোগিতায় পালন করছেন বিচারকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তার এই প্রোগ্রামার হয়ে ওঠা, তরুন প্রজন্মের কাছে প্রোগ্রামিং কতোটা জনপ্রিয়, বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং এর বর্তমান অবস্থা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা হয় হ্যালোর সাথে।

হ্যালোঃ কেমন আছেন, ভাইয়া?

শাহেদঃ ভালো আছি......

হ্যালোঃ আপনার প্রোগ্রামিং এর শুরুটা কীভাবে?

শাহেদঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে যখন কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হলাম তখন দেখতাম ভার্সিটির বড় ভাইরা কোডিং করে। তখন থেকেই প্রোগ্রামিং এ একধরনের আগ্রহ কাজ করতো। পরবর্তীতে অল্প স্বল্প সমস্যার সমাধান করতে করতে আসলে প্রোগ্রামিং এর শুরুটা।

হ্যালোঃ স্কুল-কলেজে পড়া অবস্থায়ই কি প্রোগ্রামার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন?

শাহেদঃ না, ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরই মুলত একজন প্রোগ্রামার হওয়ার স্বপ্ন দেখা। আসলে গণিতের প্রতি ছোট বেলা থেকেই আমার অনেক টান। গণিতে যেমন নতুন নতুন অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়, প্রোগ্রামিংয়েও তেমনটা করা যায়।

হ্যালোঃ এ পর্যন্ত কতগুলো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন? সেগুলোতে আপনার উল্লেখযোগ্য সাফল্য কী?

শাহেদঃ আমি এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।

অর্জন হিসেবে আমরা ৪৫টি দেশের ১২৮টি টিমের সাথে লড়াই করে ৫৬তম হই। এর আগে আমি ২০১৫ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইউপিসি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হই। এরপর ২০১৬ সালে এনএসইউ আইইউপিসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই। ২০১৭ সালে এমবিএসটিইউ আইইউপিসি এবং ইউআইটিএস ন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হই। এছাড়া তিন বার ঢাকা রেজিওনাল এবং চার বার এনসিপি ছাড়াও আইইউটি আইইউপিসি, বুয়েট আইইউপিসিসহ আরও কিছু ন্যাশনাল লেভেল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। এখনও নিয়মিত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি। আমি ২০১৬, ২০১৭ সালে  ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং (NHSPC) প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করেছি। তাছাড়া আরও বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলাম।

হ্যালোঃ একজন প্রোগ্রামার হয়ে উঠতে আপনাকে কি কি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

শাহেদঃ আমার নিজের খুব বেশি প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হয়নি তবে আমাদের দেশের অভিভাবকেরা চান ভালো ফলাফল!পরিবারের চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং করতে অনেকের অনেক কষ্ট করতে হয়। এ ব্যাপারে আমার পরিবার থেকে আমি পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। আর প্রতিবন্ধকতা বলতে আসলে সময়ের অভাব ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, ল্যাব করার পর প্রতিদিন অনুশীলনের জন্য সময় বের করতে পারাটা একটু কষ্টকর। এই পর্যায়ের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ভার্সিটির মোটামুটি সবাইকেই যেতে হয়, তাই এটা আসলে সবার জন্যই প্রতিবন্ধকতা। 

হ্যালোঃ বাংলাদেশে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কতটা জনপ্রিয় বলে আপনি মনে করেন?

শাহেদঃ আসলে গত তিন বছর আগেও প্রোগ্রামিংটা আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে অতটা পরিচিত ছিল না। তবে ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং(NHSPC) প্রতিযোগিতা আয়োজনের পর থেকে অনেকেই এখন প্রোগ্রামিং শিখছে, চর্চা করছে।

হ্যালোঃ কেউ যদি নিজেকে একজন প্রোগ্রামার হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাহলে তার প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

শাহেদঃ ভালো প্রশ্ন। প্রোগ্রামিং শিখতে বা একজন ভালো প্রোগ্রামার হওয়ার মূল শর্তই হল গণিতকে ভালোবাসা। যে যত বেশি গণিত করবে সে ততো বেশি ভালো করতে পারবে। আর তোমাদের মতো ছাত্ররা যারা প্রোগ্রামিং করতে চায় তাদের হাইস্কুল থেকেই টুকিটাকি প্রোগ্রামিং শুরু করে দেয়া দরকার। এছাড়াও সবচেয়ে যে বড় কাজ হল কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায় করা।

হ্যালোঃ যারা প্রোগ্রামিং এ একেবারেই নতুন তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

শাহেদঃ আমাদের দেশে অনেক প্রোগ্রামিং এর বই আছে যেমন তামিম শাহরিয়ার সুবিন ভাইয়ের লেখা “কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বই”, এছাড়াও ইন্টারনেটে আছে অনেক ব্লগ, ওয়েবসাইট। শুধুমাত্র ইন্টারনেট এক্সেসের মাধ্যমেই অনেক কিছু শেখা সম্ভব। ফেইসবুকে বিভিন্ন প্রোগ্রামারদের গ্রুপ আছে যেখানে প্রশ্ন করলে তারা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন, এইসব গ্রুপের সদস্য হওয়া। তাছাড়া প্রোগ্রামিং এর সাথে জড়িত এমন কারও কাছ থেকে শুরুটা দেখিয়ে নেয়া যেতে পারে।

হ্যালোঃ বাংলাদেশের একজন প্রোগ্রামার এবং অন্য দেশের একজন প্রোগ্রামারের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?

শাহেদঃ মূলত অন্যদেশের প্রোগ্রামাররা ১১/১২ বছর বয়স থেকেই প্রোগ্রামিং শিখতে শুরু করে। যা আমদের দেশের প্রোগ্রামাররা করে না, এই দিক থেকেই মূল পার্থক্যটা দেখা যায়।

হ্যালোঃ নিজের সম্পর্কে বলুন। 

শাহেদঃ পরিবারে আমি, আমার মা আর একমাত্র ছোট ভাই। আর প্রোগ্রামিং শুরু করার পর থেকে সবসময়ই কোডিং করতে ভালো লাগে। তাছাড়া যেকোনো স্পোর্টস আমার অনেক ভাল লাগে। বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা দেই। এইতো... 

হ্যালোঃ নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

শাহেদঃ পরিশ্রম, পরিশ্রম, পরিশ্রম। যে যে কাজই করুক না কেন তাকে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় করতে হবে।

হ্যালোঃ আপনাকে অনেক ধ্যনবাদ।

শাহেদঃ তোমাকেও অনেক ধ্যনবাদ, ভালো থেকো।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত