কথায় কথায়

আজমল তানজীম সাকির (১৩), ঢাকা 

Published: 2017-01-19 20:11:28.0 BdST Updated: 2017-01-19 21:54:50.0 BdST

ড. সাজিদ বিন দোজা বনি। ভালোবাসেন সমাজের চিত্রকে তুলে ধরতে কার্টুনের মাধ্যমে। আরেকটি পরিচয় হলো তিনি একজন স্থপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও। আলিঁয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকাতে চলছে তার একক কার্টুন প্রদর্শনী। সেখানে তিনি মুখোমুখি হন হ্যালোর।

হ্যালো- এ প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্দেশ্য কী?

সাজিদ বিন দোজা- আমি ভাবছিলাম যে এমন কিছু একটা করব যা আমাদের সমাজের সাথে, ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দেয়। এটার জন্য একটা মাধ্যম খুঁজছিলাম। ভাবছিলাম, কোন মাধ্যম বেশি ভালো হবে। মনে হলো কার্টুনই সেরা মাধ্যম। কার্টুনের মাধ্যমে তুমি অনেক বিষয়ে সহজেই তোমার ভাব প্রকাশ করতে পারবে। সহজে অনেক কিছু উপস্থাপন করতে পারবে।  

এ প্রদর্শনীতে যে কার্টুনগুলো রয়েছে সবগুলোই আমাদের চেনা জীবনযাপনের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের সংস্কৃতিও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নতুন প্রজন্মের সবাইকে এগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ প্রদর্শনী।

হ্যালো- প্রদর্শনীটি সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...

সাজিদ বিন দোজা- প্রদর্শনীটির নাম ‘জানালা’। প্রদর্শনীটি আগে পর্তুগালে হয়েছিল। সেখানে অনেক প্রশংসিত হয়। এখানে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলবে।

হ্যালো- ‘জানালা’ নাম দেওয়ার পেছনে কোনো গল্প আছে?

সাজিদ বিন দোজা- আমরা যখন বাইরে যেতে পারি না তখন কিন্তু জানালা দিয়েই বাহিরের জগৎটাকে দেখি। হাসি, কান্না দেখি। চেনা-অচেনা বহু মানুষ দেখি। অনেক ঘটনা দেখি। ছোটোবেলার অনেকটা সময়ও কিন্তু আমাদের জানালার পাশে কাটে। জানালার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু দেখতে পাই। সেখান থেকেই এ নাম।

হ্যালো- আপনার কাছে কার্টুন একটা শক্তিশালী মাধ্যম। সেক্ষেত্রে কার্টুন চর্চার প্রসার কি হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

সাজিদ বিন দোজা- খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন। হ্যাঁ, অবশ্যই হওয়া উচিত। কার্টুনের মাধ্যমে একটা সমাজ বদলে দেওয়া যেতে পারে। সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরা যেতে পারে খুব সহজেই। কার্টুন চর্চার আরও প্রসার হওয়া উচিত। যারা কার্টুন আঁকে তাদের আরো উৎসাহ দেওয়া উচিত।

এখন কিন্তু কার্টুন চর্চা অনেক বেড়েছে। মাহাদী, মিতু, তন্ময়- এরা আমাদের কার্টুনকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। অনেকে কার্টুন আঁকাটাকে পেশা হিসেবেও বেছে নিচ্ছে। এখানে আহসান হাবীবের ভূমিকাও অনেক।

হ্যালো- আমার পরিচিত অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে, যাদের বইয়ের পেছনে কার্টুন আর কার্টুন। খাতাতে লেখার ফাঁকে ফাঁকে কার্টুন। কিন্তু তারা অনেক সময় এই চর্চাটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। এ বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন?

সাজিদ বিন দোজা- এ বিষয়টা আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। বাবা-মায়ের উচিত সন্তান যেটা করতে ভালোবাসে, তাদের যেটা করতে ভালো লাগে সেটা করার সুযোগ দেওয়া। তাহলেই তাদের মেধার বিকাশ হবে। আমি মনে করি যারা খাতা আর বইয়ের পাতায় পাতায় কার্টুন আঁকে তাদের স্কুল থেকেই কার্টুন আঁকানোর অনুশীলন করানো উচিত। স্কুল পর্যায় থেকেই এটা শুরু করতে হবে। আমি তো মনে করি কার্টুন স্কুল বানানো উচিত। 

হ্যালো- কার্টুনের স্কুলের ব্যাপারে আপনার কোনো উদ্যোগ আছে?

সাজিদ বিন দোজা- ইচ্ছা আছে কার্টুনের স্কুল খোলা। আহসান হাবীবের সাথে এ নিয়ে আমার কথাও হয়েছে। ইচ্ছা আছে, চেষ্টা করব। 

হ্যালো- আপনার কার্টুন আঁকা নিয়ে জানতে চাই। শুরুটা কোথা থেকে?


সাজিদ বিন দোজা- ছোট থেকেই শুরু। ক্যাসপার, ডোনাল্ড ডাক- বিভিন্ন কার্টুন দেখতাম। টম অ্যান্ড জেরিও দেখতাম মাঝে মাঝে। কার্টুনের চরিত্রগুলো আঁকার চেষ্টা করতাম। সেখান থেকেই শুরু। 

হ্যালো- এরপর...

সাজিদ বিন দোজা- শুরুটা সেখান থেকেই ছিল। উৎসাহও পেয়েছি। আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আহসান হাবীব। যখন কলেজে পড়তাম তখন রাজশাহীতে ছিলাম। আহসান হাবীবের উন্মাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা বন্ধুরা ‘উদ্ভট’ নামে একটি কার্টুন পত্রিকা বের করেছিলাম। সেটা কলেজে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ১৯৯৯ সালে একটা ওয়ার্কশপ হয়েছিল। সার্কের সাতটি দেশের মধ্যে আমি সেখানে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। এছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্টুনের গ্রামার সম্পর্কে পড়েছিলাম।

হ্যালো- পড়াশোনা ঠিক রেখে কী কার্টুন চর্চা চালান যেতে পারে?


সাজিদ বিন দোজা- অবশ্যই যেতে পারে। কার্টুন আঁকতে বেশি সময় লাগে না তো। একটা সুচিন্তিত ছবি তোমার মাথায় থাকলে সেটা রেখায় প্রকাশ করতে আধঘণ্টার বেশি লাগে না। আমি নিজেও পড়াশোনা ঠিক রেখে কার্টুন একেঁছি। আমি একজন স্থপতি ও শিক্ষক। কাজের ফাঁকে আঁকি।   

হ্যালো- যে বাবা-মায়েরা কার্টুন আঁকাকে নিরুৎসাহিত করেন, তাদের জন্য কিছু বলার আছে?

সাজিদ বিন দোজা- তাদের বলতে চাই, দয়া করে যে যেটা ভালোবাসে সেটা করতে দিন। কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। 

হ্যালো- আর যারা লুকিয়ে লুকিয়ে কার্টুন আঁকে, তাদের জন্য?

সাজিদ বিন দোজাঃ তাদের জন্য আমার সাধুবাদ রইল। কার্টুন এঁকে ড্রয়ারে রেখে দিও না। সবাইকে দেখাও। বাবা-মা, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব- সবাইকে দেখাও। বেশি বেশি করে আঁক। যা মনের ভেতর আসবে সেটাই আঁকো।

হ্যালো- সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।


সাজিদ বিন দোজা- তোমাকেও ধন্যবাদ। 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • নোয়াখালীতে নবান্ন উৎসব

    নোয়াখালীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবান্ন উৎসব উদযাপন করা হয়।

  • রোহিঙ্গাদের জন্য সালমান রুশদি

    নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন ‘স্যাটার্নিক ভার্সেস’ উপন্যাসের লেখক সালমান রুশদিসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী।

  • বিদ্যালয় মাঠে বর্গা চাষ

    টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মোহনপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চাষের কাজে বর্গা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।