‘ইচ্ছে থাকলেই যেকোনো কাজ করা যায়’

‘ইচ্ছে থাকলেই যেকোনো কাজ করা যায়’

"আমি মনে করি, এই কারিকুলামে সুন্দর ভাবেই একজন শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়ে উঠবে। আগের শিক্ষাক্রম ছিল মুখস্ত নির্ভর। এখন একেবারে হাতে কলমে অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েই এই কারিকুলামে তাকে শিখতে হচ্ছে এবং প্রতিদিনই বলা যায় মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে; সে কতটুকু শিখছে? শিখন যোগ্যতা কোন পর্যায়ে যাচ্ছে? সেটা কিন্তু যাচাইয়ের জন্য ছয় মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।"

শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত সাতক্ষীরার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী মোমেন উদ্দিন। সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজ এলাকায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছেন তিনি। কর্মের স্বীকৃতিসরূপ দুইবার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী পদক।

হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় কথা বলেছেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তার ভূমিকা ও নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে।

হ্যালো: আমরা শুনেছি, আপনি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষকতার পাশাপাশি এই সামাজিক কাজগুলো কীভাবে ভাবে করেন?

গাজী মোমিন উদ্দিন: আসলে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে যে কোনো পেশার মানুষই কাজ করতে পারে। আমি আমার শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজগুলো করে থাকি। মূলত চাকরির আগে থেকেই এবং ছোটবেলা থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। আমার কাজের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে।

 হ্যালো: আপনি কী ধরনের সমাজসেবা মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত?

গাজী মোমিন উদ্দিন: আমি দুঃস্থ ও অসহায়দের সহযোগিতা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজ করে থাকি। আমি ডেসটিনি ওয়ার্ল্ড রেডিও ক্লাব নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এই ক্লাবের সদস্যরা আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। তথ্য পাওয়ার পর আমি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি।

হ্যালো: আপনার ভূমিকায় বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে এমন একটি ঘটনা আমাদের বলুন।

গাজী মোমিন উদ্দিন: সর্বশেষ একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটি তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের। সেখানে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তার অভিভাবকরা। আমরা তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার আপাকে সঙ্গে নিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও এতে যুক্ত হন। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়। উপজেলা প্রশাসন মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়।

হ্যালো: আমরা জানি যে, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই শিক্ষাক্রমকে আপনি কীভাবে দেখেন?

গাজী মোমিন উদ্দিন: আমি মনে করি, এই কারিকুলামে সুন্দর ভাবেই একজন শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়ে উঠবে। আগের শিক্ষাক্রম ছিল মুখস্ত নির্ভর। এখন একেবারে হাতে কলমে অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েই এই কারিকুলামে তাকে শিখতে হচ্ছে এবং প্রতিদিনই বলা যায় মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে; সে কতটুকু শিখছে? শিখন যোগ্যতা কোন পর্যায়ে যাচ্ছে? সেটা কিন্তু যাচাইয়ের জন্য ছয় মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

হ্যালো: অনেকে এই কারিকুলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের প্রতি আপনার মন্তব্য কী? 

গাজী মোমিন উদ্দিন: দুই শ্রেণির মানুষ মূলত কারিকুলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে। একটা হল, যারা এই কারিকুলাম পড়েইনি,যে বই রচনা করা হয়েছে সেটাও পড়েনি, একেবারেই আন্দাজে তারা এই বিরোধিতা করছে। আরেকটা শ্রেণি হলো, যারা এই দেশ চায়নি। তাই এই অপপ্রচারে কান না দিয়ে আমাদের এ কারিকুলাম যাতে বাস্তবায়িত হয় সেই লক্ষে কাজ করতে হবে। 

হ্যালো: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: সাতক্ষীরা।

Related Stories

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com