‘অ্যাথলেটের পাশাপাশি চিকিৎসক হতে চাই’

“তায়কোয়ান্দো শিখলে শক্তি ও সাহস দুটোই বাড়বে, যেটা আমাদের মেয়েদের দরকার”
‘অ্যাথলেটের পাশাপাশি চিকিৎসক হতে চাই’
বৃষ্টি দেব

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রথম তায়কোয়ান্দো সম্পর্কে প্রথম জানা, অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিনই শুরু হয় তার তায়কোয়ান্দো শেখার তোড়জোর।

বলছিলাম সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ২০২২ ব্যাচের ছাত্রী বৃষ্টি দেবের কথা।

বৃষ্টির বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গে সিলেটের শিবগঞ্জে থাকে।

সম্প্রতি হ্যালোর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তায়কোয়ান্দো ও তার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলে এই অ্যাথলেট।

হ্যালো: কী অবস্থা বৃষ্টি, কেমন আছো?

বৃষ্টি দেব: ঈশ্বরের কৃপায় মোটামুটি ভালোই আছি।

হ্যালো: তোমার তায়কোয়ান্দো শুরুর পেছনের গল্পটা শুনতে চাই।

বৃষ্টি দেব: আসলে জেএসসি পরীক্ষার পর আমার তায়কোয়ান্দোর যাত্রা শুরু হয়। আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর কার্যক্রম ছিল, আর আমারও ইচ্ছা ছিল। বাসায় এ নিয়ে বললে পরিবারও রাজি হয়ে যায়, তারপর জেএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিনই ভর্তি হয়ে যাই।

হ্যালো: তায়কোয়ান্দো শুরু করতে এবং চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা কে দিয়েছিলেন?

বৃষ্টি দেব: আমার পরিবারের সবাই সব সময়ই অনেক সাপোর্ট এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিশেষ করে আমার মা-বাবা এবং ঠাম্মা অনেক সাপোর্ট করেছেন। বর্তমানে তায়কোয়ান্দোতে আমি একজন গ্রিন-ব্লু বেল্টধারী।

হ্যালো: এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কেমন ছিল?

বৃষ্টি দেব: এই ক্ষেত্রে স্কুলের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। ২০১৭ সাল থেকে আমাদের স্কুলে তায়কোয়ান্দো শেখানো শুরু হয়। স্কুলে যদি তা শুরু না হতো তাহলে এই ব্যাপারে আমি মনে হয় কখনো জানতেই পারতাম না।

হ্যালো: তায়কোয়ান্দো করতে গিয়ে কি কোনো ধরনের বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছ?

বৃষ্টি দেব: হ্যাঁ অনেক বারই হয়েছি। একবার ন্যাশনাল পর্যায়ে খেলতে গেলে ফেডারেশনের কয়েকটা ছেলে মারাত্মক ভাবে টিজ করে।

ক্লাবে যখন ট্রেনিংয়ের জন্য যাওয়া লাগে, তখন অনেক সময়ই রাস্তার মানুষ, “কী তায়কোয়ান্দো করো, ধরলে তো ছুটতেই পারবা না, আমার সাথেও একটু করো তায়কোয়ান্দো,” এই ধরনের বাজে বাজে কমেন্ট করে থাকে। আসলে রাস্তাঘাটেই বেশি সমস্যা হয়, তায়কোয়ান্দোর পোশাক পরা অবস্থায়ই বেশি হয়। আসলে সমস্যাটা আমাদের সমাজের কিছু মানুষের নিচু মানসিকতার।

হ্যালো: যেসব শিশুরা বা মেয়েরা তায়কোয়ান্দো শিখতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দিতে চাও?

বৃষ্টি দেব: আসলে তায়কোয়ান্দো শেখাটা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তায়কোয়ান্দো শিখলে শক্তি ও সাহস দুটোই বাড়বে, যেটা আমাদের মেয়েদের দরকার।

হ্যালো: একজন মেয়ের তায়কোয়ান্দো শেখা কতটুকু জরুরি বলে মনে করো?

বৃষ্টি দেব: মেয়ে শব্দটাই আসলে আমাদের অনেক কিছু শিখতে বাধ্য করে, আর আমার মতে একজন মেয়ের সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে যে জিনিসটা শেখা উচিত তা হলো আত্মরক্ষার কৌশল।

হ্যালো: তায়কোয়ান্দো নিয়ে তোমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?

বৃষ্টি দেব: ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পর সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

হ্যালো: পড়াশোনা ও তায়কোয়ান্দোর পাশাপাশি কী করো?

বৃষ্টি দেব: বিতর্ক, গান ও আবৃত্তি করি। অবসর সময়ে গান গাইতে ভালোবাসি। ভবিষ্যতে অ্যাথলেটের পাশাপাশি চিকিৎসক হতে চাই।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io