ছলনার বাল্যবিয়ে

"অনেক অভিভাবক মনে করেন গরিবের সংসারে মেয়ে সন্তান অনেকটা বোঝা। তাই পাত্র পেলেই বিয়ে দেওয়াটা উত্তম।"
ছলনার বাল্যবিয়ে

আমাদের সমাজে কিছু মারাত্মক ব্যধি আছে। দিনের পর দিন সমাজ আধুনিক থেকে আধুনিকতর হলেও সমাজ থেকে এ ব্যধিগুলো সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হয়নি।

তার মধ্যে একদম বিস্তৃতভাবে শেকড় গেড়ে বসে আছে ‘বাল্যবিবাহ’ নামক ভয়ংকর এক ব্যধি। যার করাল গ্রাসে অপমৃত্যু হচ্ছে শৈশবের। এক একটি বাল্যবিবাহের কাছে আত্মসমর্পণ করছে হাজারো স্বপ্ন।

বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বেড়ে ওঠা মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন গরিবের সংসারে মেয়ে সন্তান অনেকটা বোঝা। তাই পাত্র পেলেই বিয়ে দেওয়াটা উত্তম।

 বাল্যবিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও আজকাল অভিনব সব বুদ্ধি বের করছেন আমাদের অভিভাবকেরা। কেউ বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে করিয়ে রাখছেন, কেউ বা জন্মসনদে বিয়ের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে সহযোগিতা করছেন কাজী ও জনপ্রতিনিধিরা।

বাল্যবিয়ের ঘটনায় কখনো কোনো সচেতন মানুষ বা প্রশাসনের কেউ যদি খবর পেয়ে বিয়ের মজলিসে উপস্থিত হন তবে তাকে সদ্য টাকা দিয়ে কিনে আনা নতুন জন্মসনদটা দেখানো হয়। কিনে নিয়ে আসা বললাম কেন? শুনেছি আজকাল বয়স বাড়িয়ে যে জন্ম সনদ তৈরি করানো হয় তা টাকার বিনিময়েই হয়।

মানবতার দোহাইও দেওয়া হয়। বলা হয়, আজ বিয়ে ভেঙে গেলে এ মেয়েকে নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারবেন না। সমাজে বর্তমানে এভাবেই চলছে বাল্যবিবাহ।

বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। আর এসব বিয়েতে সহায়তা করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি ও স্থানীয় কাজী। জনপ্রতিনিধির বদান্যতায় মেয়ে বা ছেলের বয়স বাড়িয়ে বা নাম বদলে জন্মনিবন্ধন করা তো আছেই।

আমাদের দেশের নারীর জন্য নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় সমস্যা৷ তাই, কোনো রকম ঝামেলা থেকে বাঁচতে মেয়েদেরকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন বাবা-মায়েরা৷ কিন্তু এতে কি আদতে ঝামেলা মেটে? দরিদ্রতা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতেও বাল্যবিয়ে দেওয়াটা অন্যায়। কারণ মাথা ব্যথা হলে তো আর মাথা কেটে ফেলা যাবে না। তাই সমস্যার সমাধান দরকার। যেকোনো অজুহাতেই বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ করতে হবে।

বরং আমাদের কন্যাদের জন্য এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মেয়েরা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারবে এবং এতে করে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। আর এর আগে বন্ধ করতে হবে বাল্যবিয়ে জোর দিতে হবে নারী শিক্ষায়।

প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: সিলেট।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com