কৃষিতে আগ্রহ বাড়ুক নতুন প্রজন্মের

বৈশাখ মাসে আমরা পরিবারসহ অনেকেই গ্রামে বেড়াতে যাই। এ সময়টাতে গ্রামে থাকে ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা।
কৃষিতে আগ্রহ বাড়ুক নতুন প্রজন্মের

এ সময়টাতে অনেক শিশুকেই দেখি পরিবারের কাজে সাহায্য করতে। বড়দের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও করে থাকে ধানের কাজগুলো। ধান কাটা, মাড়াই করা, সিদ্ধ করে রোদে দেওয়া, বৃষ্টি আসলে ঘরে তোলার কাজে পরিবারকে মূল সাহায্য তারাই করা।  

একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী পরিবারকে সাহায্য করার জন্য শহর থেকে গ্রামে এসেছে। একটু অবাক হলাম পরীক্ষার মধ্যে ওর তো এই কাজে সময়  না দিলেও চলত। কিন্তু পরেই মনে হলো, কৃষির প্রতি আগ্রহী হওয়াটা খুব ইতিবাচক একটা ব্যাপার। ওর পড়ালেখা ও ঠিক সময় মতো করে নেবে।

৮/১০ বছর বয়সী শিশুদেরও দেখলাম স্বাচ্ছন্দ্যে তারা কাজগুলো করছে। ধান তোলার কাজটা অনেকটা উৎসবের মতো। শিশুরা বেশ উপভোগ করে এটি।

কৃষকের ঘরে যখন ধান ওঠে তখন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নতুন চালের পিঠা-পায়েসের আয়োজন করা হয়। পরিবারে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় এটি নিঃসন্দেহে আনন্দই বয়ে আনে।

শিশুদের কেউ কেউ পরিবারের কাছে নানা জিনিস আবদার করে, তখন তাকে বলা হয় ধান পাকলে বিক্রির পর তোমাকে ওটা কিনে দিব। অর্থাৎ ধানকে ঘিরে উৎসব বয়ে যায় গ্রামে।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষকের উৎপাদিত প্রতিটি জিনিসই আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আরও বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য নানা গবেষণা হয়ে থাকে দেশে। এ কাজে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও খুব প্রয়োজন।

কৃষিতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারলে কমে আসবে আমাদের আমদানি নির্ভরতা। এতে করে পণ্যের দামও থাকবে হাতের নাগালে। কারণ এখানে বিমান ভাড়া বা পণ্য কেনার মতো বাড়তি খরচ যোগ হবে না।

দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে কৃষিকাজে আগ্রহী করতে হবে। কৃষকদের প্রাপ্য সম্মানির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কৃষি কাজকে কেউ ছোট মনে না করে।

শিশুরা পরিবারকে সহায়তার মাধ্যমে কৃষিকাজে অংশগ্রহণের ফলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারছে। ভবিষ্যতে হয়ত তাদের হাত ধরে কৃষি ব্যবস্থা আরও উন্নত হতে পারে।

এই শিশুরা যদি কৃষিকাজকে ভালোবাসতে পারে তবে তারাই একদিন পড়াশোনা করে নতুন জাতের ধানসহ আরও কৃষিপণ্য আবিষ্কার করতে পারবে। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ যেটা লবণাক্ত পানিতেও ফলানো যায়। সুতরাং এই শিশুদের নিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করাই যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io