টিকা নিতে কোনো ভয় পাইনি | hello.bdnews24.com
আমার কথা

ফারজানা মীম (১৫), ঢাকা

Published: 2021-11-10 23:59:34.0 BdST Updated: 2021-11-10 23:59:34.0 BdST

মহামারি করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমিও।  অভিজ্ঞতাটা একদমই ভয়শূন্য।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ছাড়া আর কোথাও ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে না। যখন থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে তখন থেকেই আমি অপেক্ষায় ছিলাম কবে আমি টিকা পাব। আমার বয়স ১২ বছরের উর্ধ্বে হওয়ায় আমিও টিকা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। 

নিবন্ধন গত মাসেই হয়ে গিয়েছিল। টিকা নেব এ খবরে আমি ছিলাম বেশ উচ্ছ্বসিত। আমাদের স্কুলের শিক্ষকেরা বলেছিলেন স্কুল থেকেই আমাদেরকে কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেয়া হবে। 

৮ নভেম্বর আমাদের শ্রেণির সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় টিকাকেন্দ্রে। এদিন আমরা সবাই করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছি। যথাসময়ে আমি স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হলাম, দেখলাম অনেকেই সেখানে উপস্থিত। 

বেশ কিছুক্ষণ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমাদের পাশের লাইনে ছিল বাংলাদেশ নৌ বাহিনী কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারাও বেশ উচ্ছসিত ছিল। এরপর আমরা ভেতরে ঢুকে নিচে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। স্কাউটের সদস‍্যরা আমাদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে একেকটি বুথে  নিয়ে গেল। 

আমার সামনের সহপাঠী অনেক ভয় পাচ্ছিল কিন্তু  কর্তব্যরত নার্স তাকে অভয় দিলেন এবং টিকা যখন দিলেন তখন সে বুঝতেই পারল না। আমি একটুও ভয় পাইনি বরং  আমি ছিলাম অনেক উচ্ছ্বসিত। নির্বিঘ্নে আমি টিকা নিয়ে নিলাম। 

আমরা সবাই ফাইজারের টিকা পেয়েছি। কর্তব্যরত নার্সরা অনেক সুন্দর করে টিকা দিচ্ছিলেন দেখে আমার খুবই ভালো লাগল। এরপর আমাদের আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এরমধ্যে কারো কোনো সমস্যা হয়নি। 

এরপর শিক্ষকরা আমাদের গণনা করে বাসে তুললেন। সবাই আবার স্কুলে এলাম। এসে দেখি স্কুলের বাহিরে আমার আম্মু অপেক্ষা করছেন। আম্মুর সাথে দেখা করে আবার নামের  হাজিরা দিয়ে সবাই বাসায় চলেে এলাম।  

কিন্তু বিকালের পরে হাতে অনেকটা ব্যথা অনুভব করি। শুনলাম সবারই নাকি একই অবস্থা। অনেকেই বলল দুই দিন গেলেই ঠিক হয়ে যায়। আমার দ্বিতীয় ডোজের তারিখ ৬ ডিসেম্বর। আমি ওই দিনটিরও অপেক্ষায় আছি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত