বন্ধু যেন না ভোলে আমায় | hello.bdnews24.com
আমার কথা

ফারজানা মীম (১৪), ঢাকা

Published: 2021-08-01 22:13:43.0 BdST Updated: 2021-08-01 22:13:43.0 BdST

জীবনে এমন কিছু বন্ধু পেয়েছি যাদের জন্য গর্ববোধ করি। বন্ধু দিবসে তাদের নিয়ে কিছু না লিখেই নয়।

সামিয়া, তিশা, নূর, রিতিকা এবং আমি পঞ্চপাণ্ডবের মতো ছিলাম। তারা আমার স্কুলের সহপাঠী ছিল। একটা সময় সহপাঠী থেকে আমরা বন্ধু হয়ে উঠি।

তাদের সাথে আমার পরিচয় পঞ্চম শ্রেণিতে। আমি তখন প্রথম সাভারে গিয়ে নতুন স্কুলে ভর্তি হই। বাবার বদলির চাকরি হওয়ায় আমি বিভিন্ন স্কুলে পড়েছি, অনেকের সঙ্গে মিশেছি। কিন্তু তারা একদমই আলাদা। আমার সবচেয়ে আপন ও কাছের মানুষ তারা।

আমাদের বন্ধুত্ব মাত্র চার বছরের। বাবার কর্মক্ষেত্রের জন্য আমি আবার আরেক জায়গায় চলে এসেছি। আমি এখন ঢাকায় থাকি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বে একটুও ছেদ পড়েনি। আমরা নিয়মিতই যোগাযোগ করি।  

ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমাদের খুবই ভালো সময় কেটেছে কারণ তখন আমরা সবাই ভাগ্যক্রমে একই শাখায় ছিলাম। দিনের বড় একটা সময় আমাদের এক সঙ্গেই কাটত। তবে আমরা ক্লাসে অমনোযোগী ছিলাম না। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতাতেও আমরা এক সঙ্গে অংশ গ্রহণ করতাম। 

একবার স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশে আমার ডাক পড়ে শপথ পাঠ করানোর জন্য। সেদিন আমি একটু ঘাবড়েই গিয়েছিলাম। সেদিন বন্ধুরা আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছে। শপথ পাঠ করানোর পর আমি সবার আগে তাদের কাছেই ছুটে গিয়েছিলাম। যেকোনো মুহুর্তে তারা আমাকে সাহস দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

স্কুলের মধ্যাহ্ন বিরতিতে আমরা একে অপরের খাবারে ভাগ বসাতাম। এটা নিয়ে অনেক মজা হতো। ছুটি হওয়ার পর আমি তিশা, নূর, রিতিকা এক সঙ্গে যেতাম কিন্তু সামিয়ার বাসা দূরে হওয়ায় আন্টি ওকে নিতে আসতেন। তাই আর এক সঙ্গে যাওয়া হতো না। তিশার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আরও গভীর ছিল। আমরা একই জেলার ছিলাম। আমাদের বাসাও ছিল পাশাপাশি। আমি ওর বাসায় মাঝে মধ্যে যেতাম এবং তিশাও আসত আমাদের বাসায়। আমরা নানা ধরনের গাছ রোপণ করতাম। আমাদের একটি ছোট্ট বাগান ছিল। আমরা একসঙ্গে বসে শপথ করে বলতাম, দেশের জন্য ভালো কিছু করব আমরা।

নূর হতে চায় নভোচারী। এজন্য সে নাসায় যেতে চায়। আমি সবসময় ওর কথায় উৎসাহ দিতাম। সে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলাও পছন্দ করে আর আমিও খুব পছন্দ করি। কোনো একটা খেলা হলে আমরা স্কুলে এসে আলোচনা করতাম।

আমাদের পাঁচজনের যে কত স্মৃতি জমা আছে তা এক লেখায় শেষ হবে না। একবার স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা পাঁচজন ও আরো কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে এক সঙ্গে দুটি নাটকও করেছিলাম। একটি হলো 'বাল্যবিবাহ' অন্যটি 'নারী নির্যাতন'। যার মাধ্যমে সমাজে নারীদের শোচনীয় অবস্থা তুলে ধরি আমরা। নাটক দুটি সবাই পছন্দ করে।

আমি ঢাকায় চলে আসার আগে আমরা প্রতিজ্ঞা করে এসেছিলাম যে, আমরা সব সময় ভালো বন্ধু থাকব এবং যোগাযোগ রাখব।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত