কক্সবাজারে তিন দিন

তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। সালটা ২০১৭। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। 
কক্সবাজারে তিন দিন

এখন বেড়াতে যাওয়ার পালা। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায়? আম্মু বললেন, ‘চল নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।’ কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা। না, এবার আমরা নানু বাড়ি যাব না। এবার যাব কক্সবাজার।

আব্বু-আম্মুকে অনেক কষ্টে রাজি করালাম। শুরু হলো আমাদের প্রস্তুতি। ১৭ ডিসেম্বর সকালে আমি, আব্বু, আম্মু ও আমার ছোট ভাই জিসান সাতক্ষীরা থেকে সাভারে আমার কাকুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। 

সেদিন সন্ধ্যায় আমরা সাভারে পোঁছালাম। ১৮ তারিখ সারাদিন সেখানে বিশ্রাম নিলাম। গল্পগুজবও হলো অনেক। মনে মনে তো আমি ভীষণ খুশি ছিলাম কারণ অনেক দিনের একটা স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। 

১৮ তারিখ রাতেই আমরা সাভার থেকে মোট আট জন অর্থাৎ আমরা চারজন ও আমার ছোট কাকু, ছোট আম্মু, চাচাত ভাই ও বোন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। 

১৯ তারিখ সকাল প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে আমরা কক্সবাজার পোঁছালাম। সেখানে পৌঁছে হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ও খাওয়া দাওয়া করে চলে গেলাম সমুদ্র সৈকতে। প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত আমরা সৈকতে ছিলাম। 

তারপর কিছুক্ষণ হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম সূর্যাস্ত দেখতে। রাতে সৈকতের রূপ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছিল। রাস্তার পাশের দোকান থেকে এক এক করে আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু কিনে খেলাম এবং আশেপাশের জায়গাগুলি ঘুরে দেখলাম।

২০ তারিখ এল। এবার আমাদের যাওয়ার পালা সেন্টমার্টিন দ্বীপে। ছোট কাকু আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। সেন্টমার্টিন সত্যিই অনেক সুন্দর। সেখানে গিয়ে আমরা ডাব খেয়েছি। হুমায়ূন আহমেদের বাংলোও দেখেছি। পরদিন আমরা গেলাম হিমছড়ি ও ইনানী সৈকতে। অবশ্য ইনানীতে আমি প্রবাল পাথরের উপর পড়ে গিয়েছিলাম।

সেখান থেকে ফিরে আমরা গেলাম কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটে। বেশ কিছু কেনাকাটা করি সেখানে। চকলেট, চাটনি, জুতা, সাবানসহ অনেক কিছু। সত্যি বলতে এই তিনদিন আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। শুধু মনে হচ্ছিল এই তিনটা দিন যদি তিন বছর হয়ে যেত।

জীবনের স্মৃতির পাতায় এই তিন দিন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আবারও যেতে চাই প্রিয় কক্সবাজারে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com