স্কুলে ফিরব কবে? - hello
আমার কথা

ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (১৬), সিরাজগঞ্জ

Published: 2021-04-04 16:40:52.0 BdST Updated: 2021-04-04 16:40:52.0 BdST

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমাদের স্কুলে যাওয়া। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংক্রমণ বাড়ায় ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে ছুটি।

সরকার বার বার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাবলেও প্রতিবারই মহামারির জন্য তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত এই এক বছরে শিক্ষার্থীদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে অনেকে। আবার নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক শিশুকেই পড়া ছেড়ে পরিবারের বোঝা টানতে নামতে হয়েছে রাস্তায়।

গত এক বছরে শিশুশ্রম বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে বাল্যবিবাহের হারও। অনেক পরিবারের জীবন যাপন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন হয়েছে যার ফলে অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পরেছে। এই শিক্ষার্থীদের আবার স্কুলে ফেরা এখন অনিশ্চিত।

দীর্ঘদিন স্কুলে না আসায় শিক্ষার্থীদের রুটিন মাফিক চলার বিষয়টা হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। বেড়েছে মোবাইল আসক্তিও। শিক্ষার এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অনলাইন ক্লাস ও সংসদ টিভি ক্লাস।

শহরের স্কুলগুলো তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার। তবে গ্রামের প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের হাতে নেই স্মার্ট ফোন, অনেকের বাসায় টিভি পর্যন্ত নেই। এতে করে প্রায় দেশের অনেক শিশুই এই পদক্ষেপের সাথে তাল মেলাতে পারেনি।

যাদের আবার স্মার্ট ফোন ছিল তাদের ইন্টারনেটের খরচ, নিয়ে ভাবতে হয়েছে, ভাবতে হয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েও।এতে লেখাপড়ার সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

২০২০ সালের এসএসসি বাদে সকল ক্লাসের শিক্ষার্থীদের অটো পাশ দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে পূর্ববর্তী ক্লাসের শিক্ষাক্রম, দক্ষতা, আবশ্যকীয় শিখন না শিখেই উঠে গিয়েছে পরবর্তী শ্রেণিতে। এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর বলেই আমার মনে হচ্ছে। জানি না কবে এসব শঙ্কা দূর হবে, কবে স্কুল মাঠ হেসে উঠবে আমাদের পদচারণায়!

এত এত হতাশার মাঝেও চাই সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। নিরাপদ দূরত্বে থেকে মহামারি থেকে বাঁচুন।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত