ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেলি অনায়াসে - hello
আমার কথা

রূপকথা রহমান (১৭), ঢাকা

Published: 2021-03-31 16:57:37.0 BdST Updated: 2021-03-31 18:06:23.0 BdST

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি বড়রা যখন কথা বলে, তখন ছোটদের কথা বলতে নেই। ছোটদের কাজ কেবল শোনা এবং অনুসরণ করা।

এই ভুল ধারণা ভাঙায় সর্ব প্রথম এগিয়ে আসে হ্যালো। অন্তত আমার জীবনে হ্যালো।

আমার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই আমার মতামতের অনেক গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু ছোট থেকেই এই মতামত নেওয়ার প্রবণতা কেবল বাসায়ই লক্ষ্য করেছি। স্কুলে যাওয়া শুরু করলে বুঝতে পারি, ছোটদের সব জায়গায় সব বলতে নেই।

আমাদের দেশের অধিকাংশ জায়গায়ই এ ধরনের মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়। বড়রা বলবে, ছোটরা শুনবে ও তা থেকে শিখবে। কিন্তু একেবারেই ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত থেকে আমার ধারণা বদলে গেল ২০১৩ সালে।

সংবাদে হ্যালোর শিশু সাংবাদিক নেওয়ার বিজ্ঞাপন দেখে কেবলই কৌতূহলবশত নিবন্ধন করে ফেলি আমি এবং আমার ভাই। কিছুদিন পরে জানানো হয় পরীক্ষার তারিখ। অনেক উত্তেজনার সাথে পরীক্ষা দিতে যাই দুই ভাইবোন মিলে।

পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে একটু নিরাশ হই। কেননা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে জ্ঞান ছিল না অনেক কিছুরই। পরীক্ষা দিয়ে এই অভিজ্ঞতাটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলাম।

আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে, কিছুদিন পরে একটি ফোন কল আসে এবং জানানো হয় যে আমরা দুজনেই নির্বাচিত হয়েছি এবং মহাখালীতে আমাদের শেষ বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাতকারে অংশগ্রহণ করি দুজনেই এবং নির্বাচিতও হই দুজনে।  

কিছুদিন পরে প্রথম সভায় ডাকা হয় নির্বাচিত সকলকে। সভায় এসে দেখা হয় বড় মাপের অনেক সাংবাদিকদের সাথে। কিন্তু, বিস্ময়ের বিষয় এটাই যে, তাদের সকল আগ্রহ আমাদের ঘিরে। সবকিছুতেই যেন আমাদের মতামতটা আগে জানতে চান তারা।

এ ধরনের গুরুত্ব দেশের অন্য কোথাও দেওয়া হতো কিনা জানা ছিল না। দেওয়া হলেও, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে সে সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছিল না। এমনকি এখনও যখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করি ঠিক তখনও নিজের মতামত সকলের কাছে পৌঁছাতে পারি দিতে হয় অনেক বাধা-বিপত্তি।

তবে, হ্যালোর কাছ থেকে নিজের মতামতকে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে শিক্ষা পেয়েছি, অধিকার আদায়ের জন্য যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি সে জন্য কৃতজ্ঞতা আজীবন।

আমি মনে করি, এই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা অনেকভাবেই আমাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে সহায়তা করেছে। নিজেকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।

ছোটদের মতামতের গুরুত্ব বুঝতে সহায়তা করেছে হ্যালো এবং এরই সাথে ভেঙেছে আরো অনেক চলমান প্রথাগত ভুল ধারণা। নিজের কণ্ঠকে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার এই বিশাল মঞ্চের জন্য যেমন আমি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। আমি নিশ্চিত, দেশের সকল স্থানের শিশুরাও এই সুযোগ পেয়ে প্রফুল্ল।

নিজের পরিবারের বাইরে নিজের মতামতের প্রাধান্য পেয়ে হ্যালোকে মনে হয়েছিল নিজেরই আরেক পরিবার যা পাওয়ার ভাগ্য সকলের হয়ে ওঠে না। এত বছর পর, এখন নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, হ্যালো আসলেই আমার আরেকটি পরিবার যেখানে ভালোবাসা পেয়ে বেড়ে ওঠে দেশের হাজার হাজার শিশু। ভালোবাসার হ্যালোকে আজ জানাই শুভ জন্মদিন। ধন্যবাদ আমার মতো হ্যালোর সকল শিশুকে ভালোবাসায় আগলে রাখার জন্যে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত