হীনমন্য এই আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে হ্যালো - hello
আমার কথা

শেখ আব্দুল্লাহ ইয়াছিন (১৭), চট্টগ্রাম

Published: 2021-01-24 14:55:13.0 BdST Updated: 2021-01-24 15:25:11.0 BdST

ছোটবেলায় আমি পড়াশোনায় খুব দুর্বল ছিলাম। বন্ধুরাও আমার সাথে তেমন একটা মিশতে চাইত না।

তখন ভাবতাম আমি কি অসুন্দর? এজন্য কেউ ভালো চোখে দেখে না আমাকে। কেউ আমার কথা শুনতে চায় না, মিশতে চায় না। যদিও এই ভাবনা আমার নাই এখন। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষ তার মতো করে আলাদা করে সুন্দর।

সমস্যা প্রকট হতে শুরু করে যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে নির্বাচনী পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হই। পরে আমার গৃহ শিক্ষক শাকিল ভাইয়া আমাকে উনার সাথে নিয়ে রাখতেন। দিনে দুই বেলা পড়াতেন।

শিক্ষকদের অনুরোধ করে দিতে হয়েছিল পিইসি পরীক্ষা। সেবার আমি ৪.০৮ পেয়ে কৃতকার্য হই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর শাকিল ভাইয়া হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য দুই পৃষ্ঠা করে বাড়ির কাজ দিতেন। বিষয় নিজের মতো যেকোনো কিছু। আমিও লিখতাম নিয়মিত। লেখাগুলো কখনো গল্প বা কবিতা হয়ে ধরা দিত। ভাইয়া আমাকে বেশ অনুপ্রেরণা দিতেন।

একটা সময় লেখাগুলো প্রকাশের ইচ্ছা জাগে কিন্তু আমার লেখাগুলো প্রকাশযোগ্য তো? এ নিয়ে দ্বিধায় ভুগতাম। এমন একটা জায়গা খুঁজছিলাম যেখানে আমার লেখা পড়ে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিবে। হ্যালোর প্রাক্তন শিশু সাংবাদিক রুমান হাফিজ ভাইয়ের মাধ্যমে হ্যালোর সন্ধান পাই। উনার কথা মতো নিবন্ধন করি। কয়েকদিন পর অফিস থেকে ফোন করে লেখা পাঠাতে বলল, লেখা মেইল করে পাঠালাম। কয়েকদিন পর আমার লেখাও প্রকাশ হলো। তখন সে কী আনন্দ! এটা আর লিখে বোঝাতে পারব না।

আমার নিজের ফোন ছিল না। কখনো আপুর ফোন থেকে, কখনো সাইবার ক্যাফে থেকে লেখা মেইল করতাম। যখন লেখা প্রকাশ হতো তখন আনন্দটাই মূখ্য হয়ে উঠত। মনে মনে উচ্ছ্বাস কাজ করত। আত্মবিশ্বাসী হতে শুরু করি তখনই।

একটা সময় ভাবতাম আমার কথা কে শুনবে, হয়ত তার কোনো মূল্য নেই। হ্যালো আমাকে শিখিয়েছে আমার কথাও গুরুত্বপূর্ণ, আমিও বলতে পারি। যখন হ্যালোর ভিডিও স্টোরি করতে যেতাম, হ্যালো থেকে বোঝানো হতো কীভাবে কী করতে হবে।

প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে অনেকের সাথে অনেক সহজে মিশেছি। অনেকে শিশু সাংবাদিক শোনার পর স্নেহ করেছেন, সহযোগিতা করেছেন ভিন্ন কাজে। হ্যালো থেকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখেছি। অফিস আমার ভুলগুলো শুধরে দিয়েছে। পাঠানো লেখার সাথে প্রকাশিত লেখার মিল-অমিল খুঁজে নিজের ভুলগুলো খুঁজে পেয়েছি।

আমি আরও বড় লেখক হতে চাই। সবার মাঝে আমার গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পেতে চাই। আমার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে হ্যালো। বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমকে কীভাবে ধন্যবাদ দেব জানি না। এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের কথাকে এত মূল্য দেয়! একটি প্ল্যটফর্মই ছেড়ে দিয়েছে শিশুদের জন্য। এটা শুধু বড় একটা গণমাধ্যম নয়, বড় মনের একটা গণমাধ্যম বলে আমি মনে করি। দেশের ভবিষ্যতগুলোকে যত্ন সহকারে তৈরি করে উপহার দিতে যাচ্ছে দেশকে।

আমার বয়স ১৮ হয়ে গেল। আমিও চলে এলাম হ্যালোর  প্রাক্তনদের দলে। হ্যালো থেকে বিদায়ের ঘণ্টাটা আঠারো পূরণের আনন্দে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। তবুও দিনশেষে আমি হ্যালো পরিবারেরই একজন, তাই না?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত