রাত পেরোলেই ১৮, বিদায় হ্যালো! - hello
আমার কথা

দ্বীন মোহাম্মাদ সাব্বির (১৭), সিরাজগঞ্জ

Published: 2020-11-13 23:28:16.0 BdST Updated: 2020-11-13 23:28:16.0 BdST

সাংবাদিকতা কারো পেশা, কারো আবার নেশা। আমি বলি এটা ভালোবাসা।

শিশু সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেছিলাম হ্যালোর হাত ধরে। আমার ভাবতেই অবাক লাগে, বাংলায় শিশু সাংবাদিকতায় পৃথিবীর প্রথম বাংলা সাইট আমাকে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি দিয়েছে। 

হ্যালো শুধু শিশু সাংবাদিকতার একটি মঞ্চ না। এটি ভালো লাগা ও ভালোবাসার নাম। শিশুদের বড় হয়ে শুধু সাংবাদিকতা পেশায় যেতে হবে, এমন শিক্ষা কখনো দেয়নি।  ভালো মানুষ, যোগ্য ও সৎ নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।

আজ আমার ১৮ তম জন্মদিন। জন্মদিন সবার কাছে আনন্দময় হয়। হ্যালো থেকে বিদায় নিতে হবে বলে আমার মনটা ভার হয়ে আছে। অনূর্ধ্ব ১৮ বয়সীরাই হ্যালোর শিশু সাংবাদিক থাকতে পারে।

২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ পৌর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হ্যালোর একটি কর্মশালার মধ্য দিয়ে আমার শিশু সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। এটি আমার জীবনে নতুন অধ্যায়। শৈশব থেকেই ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সাংবাদিক হব। সেই ইচ্ছা ১৫ বছর বয়সেই পূরণ করে দেয় হ্যালো। 

শিশুদের নিয়ে কাজ করে পেয়েছি ইউনিসেফের 'মীনা মিডিয়া এওয়ার্ড'। হ্যালো দিয়েছে আমাকে অনেক বন্ধু। সমাজে বঞ্চিত শিশুদের কথা মূল ধারার গণমাধ্যমে তুলে আনতে পেরেছি হ্যালোর মাধ্যমে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমাকে এই প্ল্যাটফর্মটা না দিলে হয়ত, আজ অনেক কিছু থেকেই পিছিয়ে থাকতাম। ভবিষ্যতে বিডিনিউজের কোনো বিভাগে কাজ করার সুযোগ পেলে কখনোই তা হাতছাড়া করব না। অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও আমার এই পাঠশালাকে ভুলব না।

আমার ছোটরা অনেকেই হ্যালোতে সাংবাদিকতা করছে এবং করবে, বড়রা অনেকেই বিদায় নিয়েছে। আমিও আজ তাদের পথ ধরেই চলে যাচ্ছি। ছোটদের এটাই বলব, হ্যালো যা দিবে, তা যেন আকড়ে নিজের ঝুলিতে ভরে নেয়।

শেষ লেখাটি প্রকাশ হলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখব, বিদায়ের ক্ষণ কী ভারি আর কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। মনকে বুঝিয়ে নিচ্ছি, হ্যালোতে আর লেখা প্রকাশ হবে না আমার, তবে আমি তো চিরদিনই হ্যালো পরিবারের একজন হয়েই থাকব।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত