আমার কথা

মানজুরুল ইসলাম সাজিদ (১৬), বাগেরহাট

Published: 2020-05-23 09:23:28.0 BdST Updated: 2020-05-23 09:23:28.0 BdST

কিছুদিন আগেই আঘাত করে গেল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সুন্দরবন বুক পেতে দেওয়ায় অনেকটাই ক্ষতি কম হয়েছে। তবে সেবার সুন্দরবনের পাশের গ্রামগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। 

বছর না ঘুরতেই আবার হাজির হলো ঘূর্ণিঝড় আম্পান। একদিকে নভেল করোনাভাইরাসের ধকল সামলাতে ব্যস্ত, অন্যদিকে আম্পান। 

বড়রা অনেকেক বলছেন এবারও নাকি সুন্দরবনের জন্যই রক্ষা পেয়েছি। সুন্দরবন না থাকলে ক্ষতি হতো আরো অনেক বেশি। 

উপকূলবাসীকে সবসময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়। ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৯ সালে আইলার স্মৃতি আজও উপকূলবাসীকে কাঁদায়। সুন্দরবন তার বুক পেতে দেয় বলে অনেকটা রক্ষা পায় উপকূলবাসী।

আমার বাড়ি বাগেরহাট। ছোট থেকেই অনেক ঘূর্ণিঝড় দেখেছি। কখনো ব্যাপক ক্ষতি কখনো অল্প বিস্তর। এই ভাঙাগড়াতেই আমাদের জীবন। 

আম্পানের দিন ঝড় শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। প্রায় সারা রাতই ছিল এর প্রভাব। আমার পরিচিত বন্ধুদের খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। একজন জানায়, তাদের বসতভিটা হাঁটু পানির নিচে। সে বলছিল তাদের গ্রামে আশ্রয় কেন্দ্র নেই। অনেক দূর পারি দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হবে বলে তারা যায়নি।

একজন আরেকজনকে ফোন কল করে শুধু প্রকৃতির কাছে অসহায়ত্বের কথা শুনছিলাম।

এই দুর্যোগ মেকাবেলায় বড়দের পাশাপশি বসে ছিল না শিশুরাও। নিজ গ্রামকে রক্ষার জন্য বড়দের পাশাপাশি নিজেরাও হাত লাগিয়েছে বেড়িবাঁধ রক্ষায়। 

বাসায় বসে আমার সারাদিন চোখ ছিল খবরে। কোথায় কী হচ্ছে জানার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইন্টারনেট সংবাদপত্রের উপরই ভরসা করছিলাম। সব আপডেট নিচ্ছিলাম।

এক পর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। আমাদের রক্ষার করার জন্য বুক পেতে দিয়েছিল সুন্দরবন। নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে, গাছপালা দিয়ে বাতাসের গতিবেগ কমিয়ে আনে। আমার বাসা থেকে খুব কাছেই সুন্দরবন। এজন্য বড় চিন্তা হচ্ছিল। যেমন মানুষ নিয়ে ভাবছিলাম, তেমনি ভাবছিলাম গবাদিপশু ও সুন্দরবনে প্রাণিদের নিয়ে।

সুন্দরবনের কারণেই হয়তো রক্ষা পেয়েছি, সুস্থ আছি ও বেঁচে আছি।  আমাদের সুন্দরবনকে ধ্বংস করা যাবে না। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং সচেতন হতে হবে তাহলে লড়তে পারব এসব দুর্যোগের বিরুদ্ধে। 

 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত