আমার কথা

মাইনুল ইসলাম শাওন (১৬), ঢাকা

Published: 2020-04-02 23:29:35.0 BdST Updated: 2020-04-04 20:51:44.0 BdST

আমার দেশকে করোনাভাইরাস আতঙ্ক গ্রাস করার কদিন আগেই ঘুরে এসেছিলাম সাভারের গোলাপ গ্রাম থেকে। ঘরে বসে তারই স্মৃতিচারণ করছি।

গোলাপ গ্রামের অবস্থান সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া গ্রামজুড়ে দেখা মেলে নয়নাভিরাম গোলাপ বাগানের অপূর্ব দৃশ্য।

যতদূর চোখ যায় চোখের সীমানায় ধরা পড়ে শুধু গোলাপ আর গোলাপ। তাই এ গ্রামগুলো এখন গোলাপ গ্রাম নামেই বেশি পরিচিতি পাচ্ছে।

তুরাগ নদীর অববাহিকায় মিরপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই গ্রামগুলো। গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে আঁকা-বাঁকা সরু পথ। সেখানেই ছোট বড় অনেক গোলাপ বাগান। কোথাও কেবল চারা গাছ লাগানো হয়েছে। কোথাও ফুল ফুটেছে, কোথাও জমি মাদা করা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে গোলাপ তোলার দৃশ্য। কর্মীরা একটা বড় কেচি নিয়ে ফুলগুলো কেটে কেটে হাতে তুলে নিচ্ছে। কী নিখুঁত করে তুলছিল ফুলগুলো। টাটকা রাখার জন্য তারা ফুলগুলো পানিতে রাখেন। এরপর বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত করা হয়৷ স্থানীয় বাজারে রোজ বিক্রি হয় এই গোলাপ। এই বাজার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা ফুল কিনে নেন। কেউ কেউ গাছও কিনে আনেন। রোপন ও যত্নের নিয়ম কানুনগুলো বিক্রেতারাই শিখিয়ে দেন। অনেকে সেখানকার মাটিও নিয়ে আসেন।

অনেকে নয়নাভিরাম গোলাপের সমাহার দেখতে এখানে ঘুরতে আসেন। তারা ছবি তোলেন, সময় কাটান আবার খুচরা মূল্যে ফুলও কিনে নিয়ে যান।

চাষীরা বলছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে অনেকেই গাছের ক্ষতি করে। তাদেরকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। তারা এমনটা আশা করেন না।

রোদের মধ্যেই ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম বাগানগুলো। এ যেন আরেক দুনিয়া। স্বর্গরাজ্য বোধহয় এমনি হয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত