আমার কথা

মেহেদী হাসান (১৭), সিরাজগঞ্জ

Published: 2020-03-12 15:39:22.0 BdST Updated: 2020-03-12 15:39:22.0 BdST

শীত প্রায় যায় যায়। কলেজ থেকে ছুটি পেয়ে উড়াল দিলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।

ছোট আপু আর ভাইয়া প্রথমে পরিকল্পনা করে শুধু চট্টগ্রামে ঘোরাঘুরি হবে। কিন্তু ভাইয়া পরে এর সাথে কক্সবাজারও যুক্ত করে দিল।

প্রথমদিন আমরা যাই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতে। ছবি তুললাম, মজা করলাম। সমুদ্র বন্দর, সেনাঘাঁটি,  অলংকার মোড়, ফয়েস লেক, চিড়িয়াখানা সবকিছু দেখা হয়।

দুই দিনের ভ্রমণ শেষে মাঝরাতে আমরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। ভাইয়া আঙ্গুর কিনল, আমরা খেলাম গাড়িতে বসেই। কর্ণফুলি সেতুতে উঠতেই মনে হল আকাশের সব তারারা পানিতে খসে পড়ছে। এর মাঝে একটু ঘুমিয়েও নিলাম।

ভোর চারটায় কক্সবাজারে পৌঁছাই। আলো ফুটতে শুরু করে চারপাশে। সেলফিস্টিক বের করে আমরা ছবিও তুলে সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখি। শাপলা ফুলে ভরা একটা পুকুর দেখলাম। ভাইয়া বলল এটা পর্যটন এলাকা, এমন সুন্দর সুন্দর অনেক কিছু পাবে এখানে।

তারপর আমরা হোটেলে সবাই বিশ্রাম নিলাম। বিশ্রামের পরই শুরু হল আনন্দযজ্ঞ। লাবনি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্টে মজা করি। সাগরের জলে গোসলও করলাম। লবনাক্ত পানিতে নেমে আমার চোখে জ্বালা শুরু হল।

দুপুর নেমে এল, আমরা খাবার সেরে নিলাম। পরে মেরিনড্রাইভ সড়ক দিয়ে দিয়ে যাত্রা শুরু করি হিমছড়ির দিকে। এই সড়কের বিশেষত্ব হল, একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সাগর। খোলা জিপ পাওয়া যায় এই সড়ক ধরে হিমছড়ি যাওয়ার জন্য। আমরা হৈ-হুল্লার করতে করতে পৌঁছাই সেখানে।

সূর্য ডোবা দেখলাম এখানে। তারপর ফিরে এলাম লাবনী পয়েন্টে। সেখানে বাণিজ্যমেলা ঘুরে দেখলাম। শামুক, ঝিনুকের হরেক রকমের পণ্য পাওয়া যায় এই মেলায়। রাতে আমরা হোটেলই থাকি। সকালের নাস্তা শেষ করে ফেরার জন্য রওনা দেই। সেই দিনের প্রতিটা দৃশ্য আমার মনে হয়, স্মৃতিতে বুঝি থেকে যাবে আজীবন।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত