আমার কথা

শ্রেয়া সিংহ রায় (১৫), শেরপুর

Published: 2020-03-09 17:15:18.0 BdST Updated: 2020-03-09 17:15:18.0 BdST

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ছেলে-বুড়ো সবার কাছে সমান জনপ্রিয়। কিন্তু শিশুদের জন্য বিপত্তিটা যেন বেশি।

ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারের মত প্রতিষ্ঠানগুলো একজন আরেকজনের সাথে প্রতিযোগীতা করে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক ধরে রাখার যত কৌশল আছে সবই করছে তারা। এক্ষেত্রে সফলও হয়েছে তারা।

বর্তমানে বিষয়টা এমন ঠেকেছে যে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার সাথে আমাদের তথাকথিত স্মার্টনেসের বিষয়টি জড়িয়ে গেছে। ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট নাই মানে আমি মূর্খ, আমি স্মার্ট নই ইত্যাদি।

আমাদের জীবনের সাথে উতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ইন্টারনেট। কিছু খুজঁতে গেলে আমাদেরকে গুগলের শরণাপন্ন হতে হয়, ইউটিউব ছাড়া যেন এখন আমরা রান্নাও করতে পারি না। কিন্তু এই ইন্টারনেটই আমাদের নানা বিপদে ফেলছে।

ইন্টারনেটে প্রাপ্তবয়স্কদের অনেক সাইট আছে যা সবার কাছেই উন্মোক্ত। কখনো ঢুকতে না চাইলেও চলে আসছে সামনে। একজন শিশু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মনোজাগতিক অবস্থাটা বাজে রকমের হয় তখন। ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, হ্যাক করা, প্রতারণাসহ নানা নেতিবাচক কাজ করা হচ্ছে ইন্টারনেটকে ঘিরে।

অনেক সাইটে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়। যা আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। তাই শিশুদেরকে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পরিচয় করানোটা জরুরি। আরেকটা বড় বিষয় হলে, ইন্টারনেট এক ধরনের হতাশা তৈরি করছে।

পারিবারিক, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে আমাদের যোগ দিতে অনীহা বাড়ছে। আড্ডা, শারিরীক শ্রম, মাঠে বা প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার ইচ্ছাগুলোও যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বইপড়ার কথা তো বাদই দিলাম। আগের মত চুপি চুপি গল্পের বই পড়ার অভ্যাসগুলো এখন আর নাই। সবই ইন্টারনেটের প্রভাব। সবাইকে অনেক বেশি যান্ত্রিক বানিয়ে দিচ্ছে। আবেগ-অনুভূতি নষ্ট করে দিচ্ছে।

কিছু সামাজিক মাধ্যমকে আজকাল দেখা যাচ্ছে সহিংসতার স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র তারা মুছে দিচ্ছে। শিশুদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কন্টেন্টও মুছে দিচ্ছে। এটা বেশ ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি শিশু সুলভ কিংবা শিশু বান্ধব হতে হবে।

আমাদের নিজেদের সচেতনতার বিষয়টি তো এড়িয়ে যাবার মতই না। সবার বাসায়ই সাধারণ ছুড়ি থাকে। কেউ এটা ব্যবহার করে ভালো কাজে, কেউ করে খারাপ কাজে। তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবক-শিশু সবাইকেই সচেতন হতে হবে। তাছাড়া ইন্টারনেটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৃহত্তর পরিকল্পনা নিতে হবে। শিশুদেরকে বাঁচাতে হবে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত