আমার কথা

সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ (১৭), বাগেরহাট

Published: 2020-02-06 15:42:52.0 BdST Updated: 2020-02-06 15:42:52.0 BdST

কনকনে শীতের সকালে আমার মতো আলসে ছেলে শত প্রয়োজন থাকলেও লেপ কম্বল ফেলে উঠে যাবে তা অবিশ্বাস্য।

তারপরও এক রাতে খিচুড়ি খাওয়ার লোভে রাত ৩টা অবদি জাগলেও, ভোর সাড়ে ৭টায় ফোনের ক্রিং ক্রিং শব্দে ধড়ফড় করে উঠে বসলাম।

চুপচাপ কিছুক্ষণ কলদাতাকে মনে মনে ইচ্ছা মতো বকে দিলাম। ফোন রিসিভ করতেই ও পাশ থেকে ছোট চাচা কথ আবলে উঠলেন।

তিনি জানতে চাইলেন আমি গ্রামের বাড়িতে যেতে চাই কি না! বাড়ি যাওয়ার কথা শুনেই তড়াক করে ঘুম পালালো।

এরপর ঝটপট উঠে পনের মিনিটের মধ্যে তার মেসের সামনে চলে গেলাম। দুই জনে মোটরযানে করে ৮টায় গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। হঠাৎ করে কোথাও ঘুরতে গেলে মনে আনন্দ লাগা দোষের নয়।

কিছুদূর অতিক্রম না করতেই বাধল ঘোর বিপত্তি। আমরা যতই এগুচ্ছি ততই আমার শরীর ঠাণ্ডায় অবশ হয়ে যাচ্ছে যেন। এরপর রুপসা ব্রিজে নামলাম একটু। অত্যধিক কুয়াশার জন্য রূপসার চিরচেনা ঘোলাজল দেখতে পেলাম না।

খানিকক্ষণ ব্রিজে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করার চেষ্টা করলাম। এতে মনে প্রশান্তি আসে। মাঝে মধ্যে ইচ্ছা করে এই সংর্কীণ পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যাই। প্রকৃতির কাছ থেকে কিছু মানবিকতা ধার করে মানবকুলের মাঝে বিলিয়ে দিই।

এই ফুরফুরে রূপসার বাতাসে যেন অনাবিল আনন্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম।

প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে করতে কখন যে যাওয়ার সময় চলে এসেছে তা খেয়ালই করিনি। পথে যেতে যেতে সকালের নাস্তা সারার জন্য হোটেলে ঢুকলাম। আমি খাওয়ার চেয়ে মেসের সাথে হোটেলের রান্নার পার্থক্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করলাম। হোটেলের খরচ চুকিয়ে নির্বিঘ্নে বাকি পথটুকু পাড়ি দিলাম।

বাসায় ফিরে সকালে ঘুমের জন্য হা হুতাশ করলাম এইভেবে যে খুলনায় থাকলে নিশ্চয় এতক্ষণ পরিপূর্ণ ঘুম দিয়ে উঠতে পারতাম।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত