আমার কথা

শেখ নাসির উদ্দিন (১৬), টাঙ্গাইল

Published: 2020-02-03 15:43:35.0 BdST Updated: 2020-02-03 15:43:35.0 BdST

টেলিভিশনের পর্দায় জাতীয় সংসদ অধিবেশন মাঝে মাঝেই দেখি। অধিবেশন দেখে অনেক কিছু শিখেছি।

গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ সদস্য ক্লাবে। টাঙ্গাইল ০৭ আসনের পক্ষে এই অধিবেশনে যোগ দেবার সুযোগ পেয়েছিলাম।

যাচ্ছি যখন সংসদে তাই আমার আগ্রহের শেষ ছিল না। আগের দিনই চলে যাই ঢাকায় আর আমার এলাকা জুড়ে তখন আমার সংসদে যাবার গরম খবর ছড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। আর সেই সংবাদ ছাপা হয়েছে জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন পত্রিকাগুলোয়।

খুব সকালে সংসদের উদ্দেশ্য রওয়ানা শাহজাহানপুরের মামার বাসা থেকে বের হই। সংসদ ভবনের গেটে যেতেই দেখতে পেলাম আমার মতো অনেক ক্ষুদে সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে আছে। দেশের ৬৪ জেলার ৩০০ আসনের ক্ষুদে সংসদ সদেস্যগণ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেবে।

৩০০ আসনের সংসদ সদস্যদের ১৫টি দলে বিভক্ত করে ১৫টি বিষয়ে বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

আমি ছিলাম ১৫ নম্বর গ্রুপে আর আলোচনার বিষয় ছিল ''নীতিনির্ধারণীতে তরুণদের অংশগ্রহণ।”

রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে অনুমতি পত্র নিয়ে চলে গেলাম ১৫ নম্বর গ্রুপ ক্যাম্পে আর সেখানে গিয়েই দেখা মিলল দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বন্ধুদের সঙ্গে।

পরিচয় পর্ব শেষ করে আলোচনার বিষয় নিয়ে আমরা নিজেরা আলোচনা শুরু করলাম। যোগ দিলেন ইউনিসেফ কর্মকর্তা ইয়াসমিন খান ও একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। অধিবেশনের প্রথম পর্বের আগে ঠিক করে নিলাম আমরা কী বলতে চাই?

আমাদের গ্রুপ থেকে ছেলেদের মধ্যে কথা বলার জন্য দাঁড়াল তামহিদুল আর মেয়েদের মধ্যে জয়ী। সকলের আলোচনার ভিত্তিতে তারা কথা বলার প্রস্তুতি শেষ করল৷

মঞ্চে আছেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। প্রথম পর্বে স্পিকার ছিলেন এরোমা দত্ত।

একের পর এক বক্তব্য উথাপন শুরু হলো। প্রথমে আমরা একটা বক্তব্য শুনছিলাম আর হাত তালি দিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে একজন সংসদ সদস্য বলে উঠলেন, ‘সাংসদরা হাত তালি দেন না, টেবিল চাপড়ান।’

আহ! সেদিন টেবিল চাপড়াতে চাপড়াতে হাত প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে গিয়েছিল।

অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে স্পিকার হিসাবে পেলাম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়াকে। পাঁচটি বিষয়ে শুরু হল প্রশ্ন উত্তর, তরুণদের বক্তব্যে অবাক স্পিকারও।

সব শিশুর সমান অধিকার, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষা, পাশবিক নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তন, বাল্যবিবাহসহ আরো অনেক বিষয়ে কথা হয়। প্রজন্ম সংসদে পাঁচটি বিষয়ের চারটি বিল পাস হয়। এরপর সংসদের মূলতবি ঘোষণা দেন স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।

এবার ফটোসেশনের পালা। মেন্টর জসিম আমাদের সিরিয়ালি বের করে দিলেন। হালকা দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছাতে হল সংসদ ভবনের সামনে। সবার মাঝে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার, তোলা হল দলগত ছবি। সবশেষে সবার হাতে ইউনিসেফ ধরিয়ে দিল অংশগ্রহণকারীর সার্টিফিকেট আর ততক্ষণে হ্যালোর অনেক সাংবাদিক জড় হয়ে গেলাম।

শিশু সাংবাদিকতার সুবাদে পাওয়া প্রিয় মানুষগুলোর সাথে হালকা আড্ডা আর ফটোসেশন করে ফিরতে হল বাসায়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত