আমার কথা

বিপ্লব ইসলাম (১৭), ঢাকা

Published: 2020-02-02 11:59:14.0 BdST Updated: 2020-02-02 11:59:14.0 BdST

আমার বাবার জীবন সংগ্রামের গল্পটা আমার কাছে অনেক বড় প্রেরণা। তাকে আমি অনুসরণ করি।

বাবার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। বাংলা লেখাটা দেখে দেখে আয়ত্ব করেছেন। দাদীর মুখে শুনেছি, বাবা ছোটবেলায় অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। সংসার চালানোর জন্য বাদাম বিক্রি করতেন পাশাপাশি দর্জির দোকানে বসে থাকতেন কাজ শেখার জন্য। সেখান থেকেই তিনি ঠিক করেন বড় হয়ে একজন দক্ষ কারিগর হবেন। বিভিন্ন জেলা থেকে বাবা প্রশিক্ষণ নিয়ে এক সময় বেশ দক্ষতা অর্জন করেন।

যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন দেখতাম বাবা সামান্য বেতনে অন্যের দোকানে কাজ করেন। সারাদিন দীর্ঘ পরিশ্রমের পর যখন রাতে বাসায় আসতেন বাবার তখনকার চেহারাটা আমাকে মনে শক্তি জোগাতে শুরু করে। বাবা অনেক কষ্ট করলেও সেগুলো আমাদেরকে আঁচ করতে দিতেন না।

আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি তখন বাবা যে দোকানে কাজ করতেন সেখানকার লোকজন বাবাকে জড়িয়ে বাজে অপবাদ দেন। ষড়যন্ত্র করে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। বাবাকে জরিমানা বাবদ টাকা দিতে হয়। ফলে আমাদের জীবন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু সেটা আর বেশিদিন ভোগ করতে হয়নি। বাবা এবার নিজেই দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  দোকান শুরু সাথে শুরু হয় আমাদের নতুন এক অধ্যায়।

পড়াশোনার ফাঁকে বাবাকে দোকানের কাজে সাহায্য করতাম। বাবা কোনো বিক্রয় সহযোগী রাখেননি। কারণ ততটা সামর্থ্য আমাদের হয়নি তখনো। বাবাকে দেখতাম ক্লান্ত হয়ে বাসায় এসে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকতেন।

ধীরে ধীরে দোকানের পরিসর বাড়তে থাকে। আমি এসএসসি পরীক্ষা পাস করি। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য গ্রাম ছাড়তে হলো আমাকে। স্বপ্ন পূরণের জন্য মায়ার বাঁধন ছেড়ে চলে আসলাম। চলে আসার দিন বাসের সিটে মুখ লুকিয়ে কেঁদেছিলাম। আমার বাপটাকে আর কে সাহায্য করবে।

বাবা যে কষ্ট করেছেন সেটা মাথায় রেখে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। বাবার ঘামের প্রতিদান আমি দেবই।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত