আমার কথা

অশেষ লস্কর (১৫), যশোর

Published: 2020-01-15 14:09:00.0 BdST Updated: 2020-01-15 14:10:21.0 BdST

শীতের এই মিষ্টি ছোঁয়ায় ফুলের রাজ্য যেন নতুন রূপে নতুন ভাবে বাহারি রঙে সেজে ওঠে। নিজেকে ফুটিয়ে তোলে গোটা বিশ্বের বুকে। যা নজর কেড়ে নেয় প্রত্যেকের।

যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার অন্যতম একটি জায়গা হচ্ছে গদখালি। যা বিশ্বের বুকে ফুলের রাজধানী নামে পরিচিত।

শীতকাল আসতেই মনে পড়ে যায় রং বেরঙের ফুলের কথা। তাই ১০ জানুয়ারি বন্ধুর সাথে ভোরবেলায় রওনা হলাম গদখালীর উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে বের হলাম সকাল সাড়ে ছয়টায়। সে যেন এক মনোরম পরিবেশ। চারদিকে হালকা অন্ধকার, কুয়াশা। সেখানে গিয়েছিলাম বাসে করে। প্রায় ৪০ মিনিট পর আমরা গদখালীতে পৌঁছাই।

বাস থেকে নামতেই দেখি কিছু মানুষ হাতে ফুল নিয়ে ফেরি করছে। কেউ বা রাস্তার ধারে ফুলের ঝুড়ি নিয়ে বসে আছে। তারপর ভ্যানে চড়ে যাই ফুলের মোড়ে।

চারপাশে শুধু খোলা মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু দেখি ফুল আর ফুলের গাছ।

গদখালীতে প্রধানত গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবারাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ। এছাড়াও আরো অনেক ধরনের পাতাবাহারি গাছও চাষ করা হয়।

গদখালীর মানুষেরা প্রধানত ফুল চাষ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে। সেখানে সব নারী, পুরুষ, ছোট বড় সবাই ফুলের মাঠে কাজ করে। ভোর হতে শুরু করে ফুল কাটা। তারপর ভোর পাঁচটা থেকে আটটা পর্যন্ত চলে ফুলের হাট। সেই সময় গদখালি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুল সরবরাহ করা হয়। এমনকি গদখালীর ফুল বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

যশোরসহ গোটা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনকেন্দ্র হচ্ছে গদখালি। যেখানে অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ভিড় না থাকলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। অনুভব করে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায়।

কিন্তু গদখালিতে পর্যটকের থাকা-খাওয়ার তেমন ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। যা দূর থেকে আসা পর্যটকদের জন্য একটু সমস্যার সৃষ্টি করে।

তারপরেও গদখালি মানেই ফুলের রাজ্য, গদখালি মানেই ফুলের রাজধানী। তাই ঘুরে আসার পরও এখনও যেন মন কেড়ে নিচ্ছে সেই গদখালি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত