আমার কথা

শেখ মারুফ আহমেদ (১৭), বরিশাল

Published: 2019-11-21 23:27:17.0 BdST Updated: 2019-11-21 23:27:17.0 BdST

বয়ঃসন্ধিতে সবারই মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন আসে। নানা সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয় এ সময়।

আগে এই বয়ঃসন্ধির সংকট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতো না কেউ। অনেকেই থাকত অসেচতন। কিন্তু এখন আমরা পাঠ্য বইতেও পড়ছি এ সম্পর্কে। ফলে অনেক কিছু জানতে পারছি, শিখতে পারছি, সচেতন হতে পারছি।

বয়ঃসন্ধি ছেলে-মেয়ে উভয়ের জীবনেই প্রভাব বিস্তার করে। এ সময় নানা পরিবর্তন আসে, কিশোররা ঝুঁকি নিতে পছন্দ করে এবং শুধু নিজেকেই তারা সঠিক মনে করে।

আমি লক্ষ্য করেছি, এ সময় অভিভাবকের সঙ্গে অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়। মনে হয়, তারা আমাকে বুঝতে চায় না। আমি যেটা চাচ্ছি, যেটা বলছি কোনাটাই তারা গ্রহণ করছে না।

আমার বন্ধুদের দেখেছি এ সময়টাতে তারা বড়দেরকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।

তবে আরেকটি বিষয়ও আমি লক্ষ্য করেছি, যেটি খুবই বাজে কাজ। তাদের দেখেছি বাবা-মায়ের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করতে। এলাকা ভিত্তিক দল গঠন করা, অন্যদেরকে নিজেদের ক্ষমতা দেখানোসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলাতেও জড়াচ্ছে তারা।

এসব নানা কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হয় কিশোর-কিশোরীদের। বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা সবারই এ সময় একটু যত্নশীল হওয়া উচিত। কিশোর-কিশোরীদের বুঝতে চেষ্টা করা, তাদের কথাগুলো মূল্যায়ন করা, প্রশংসা করার মতো কাজগুলো করলে তারা উৎসাহ পায়। তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেককে আত্মহত্যা করতে শুনি। তারমধ্যে বেশিরভাগই এসএসসি পরীক্ষার পর। এখানেও মূলত বয়ঃসন্ধির প্রভাব কাজ করে।

অতি আবেগ, বাবা-মাকে ভয়, যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে অনেকে। সামনে কী আছে এটা তারা ভেবে দেখে না। পৃথিবীটা কতো বড় এটা দেখার আগ্রহ তাদের মধ্যে থাকে না। ছোট একটা বিষয়ে অনেক বড় কষ্ট পায়।

এ সময়টাতে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। বুঝতে হবে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি। এ সময়টাতে আমি একা নই, সবাইকেই নানা সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত