আমার কথা

অশেষ লস্কর (১৫), যশোর

Published: 2019-10-31 17:09:58.0 BdST Updated: 2019-10-31 17:09:58.0 BdST

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড তবে এই শিক্ষার বোঝা বইতে গিয়ে আমাদের মেরুদণ্ডের হাল কেউ দেখছে না।

একটি শিশু ভবিষ্যতে বড় হয়ে একজন মানুষের মতো মানুষ হবে, নিজেকে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠা করবে এই স্বপ্ন নিয়ে একটি শিশু বিদ্যালয়ে যায়।

বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটাই সবচেয়ে কষ্টের, ভয়ঙ্কর। হ্যাঁ ভয়ঙ্কর বলছি কারণ চার বছরের একটি শিশুর জন্য ভর্তি পরীক্ষা খুবই নির্মম। যদিও অনেক জায়গাতেই এখন লটারিতে ভর্তি করা হয়, তবে কোথাও কোথাও এখনও পরীক্ষা দিতে হয়।

সেই বয়সে একটি শিশুর ভেতরে ভর্তি সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকে না। তখন তাকে একটি ভালো স্কুলে কিংবা একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সারাদিন বসে বই মুখস্থ করতে হয়। না বুঝেই বাবা-মার জোরে তাকে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।

একটি নতুন শ্রেণিতে ওঠা মাত্রই যেন একটি শিক্ষার্থীর উপর চাপ দ্বিগুণ হতে থাকে। যখন সে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠে তখন পিইসি পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে একটানা দীর্ঘ সময় ধরে বইপড়া, স্কুলের পাশাপাশি কোচিং করা, বাসায় গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া ইত্যাদি শুরু হয়। আহা, এটা কে কী শিক্ষার পদ্ধতি বলা হয়? এতে শিক্ষা হয়ে যায় চিরতার রসের মতো। শুধু নাক মুখ বন্ধ করে গিলে যাওয়া।  

এরপর অষ্টম শ্রেণিতে উঠতেই জেএসসি পরীক্ষার জন্য একইভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। তখন পড়ালেখার চাপ থাকে আরো বেশি। তারপরে আর কোনো বিশ্রাম নেই। শুরু হয় দীর্ঘ পাঁচ বছরের যাত্রা। যতদিন না পর্যন্ত একটি ভালো জায়গায় চান্স পাচ্ছি ততদিন চলতে থাকে।

যদি এর ফলাফলের কথা চিন্তা করি, যখন ভর্তি পরীক্ষায় একটি পছন্দনীয় স্কুলে কিংবা কলেজের চান্স পাচ্ছে না, তখনই শিক্ষার্থীর উপর জোরালোভাবে মানসিক চাপের সৃষ্টি করছে। সকলের কাছে ছোট হতে হচ্ছে। আবার অনেকেই উচ্চ ক্ষমতাশালীদের হাত ধরে কিংবা ঘুষ দিয়ে পছন্দনীয় স্কুলে কিংবা কলেজের ভর্তি করছে। যা সেই শিক্ষার্থীর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে।

এবার যদি পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার কথা বলি তবে পিইসি পরীক্ষার ফলাফল প্রথমত কোথাও আমি কাজে লাগতে দেখিনি। দ্বিতীয়ত খারাপ ফলাফল অর্জন করায় কিংবা ফেল করায় অনেক শিক্ষার্থী অকালে ঝরে পড়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান কথা বললে সেখানে প্রতিটি ক্লাসে একজন শিক্ষক ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাস নিচ্ছে। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষকই নেই। আবার আমার স্কুল এর মতো বিভিন্ন সরকারি স্কুলে রয়েছে বিজ্ঞানাগারের অপর্যাপ্ততা, রয়েছে জিনিসের অপর্যাপ্ততা। যার ফল আমি নিজেই আমার স্কুল জীবনে মাত্র তিনবার বিজ্ঞানাগারে ঢুকেছি।

অন্যদিকে প্রশ্নের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে প্রতিবছর পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো না কোনো ভুল থাকবেই। বাংলা ইংরেজির মতো বিষয়গুলোতে সৃজনশীল পদ্ধতি মান সম্মত হলেও গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি মোটেও মানসম্মত নয়। কেননা গণিতের নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সকল শিক্ষার্থীর দ্বারা সম্ভব হয় না। সেই সাথে আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। পরীক্ষা সম্পর্কে বা বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত শোনা যায়। কিন্তু তার কোনো বাস্তবায়ন আজও দেখতে পাচ্ছি না। 

তাই একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থাই পারবে একটি সুন্দর জাতি উপহার দিতে যা আমাদের মতো প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত