আমার কথা

সাইদুল ইসলাম (১৭), ঢাকা

Published: 2019-10-20 17:33:34.0 BdST Updated: 2019-10-20 17:34:59.0 BdST

বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে আমরা আমাদের পাঠ্যবইয়ে অনেক কিছুই পড়েছি। যখন বাংলা দ্বিতীয় পত্রে 'বই পড়া' রচনা আসে তখন অনেক কিছু লিখেছিও পরীক্ষার খাতায়।

বই পড়া নিয়ে এতো আলোচনা হলেও আমরা যখন পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়ি ঠিক তখনি শুনতে হয় নানান কথা। যেমন, ‘এসব বই পড়া মানে সময় নষ্ট! এর চেয়ে পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দাও। এসব বই পড়ার সময় অনেক পাবে।' আসলেই কী তাই?

নেপোলিয়ান বলেছিলেন, "অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল।" এখানে কি তিনি ষাট হাজার পাঠ্যবইয়ের কথা বলেছেন? না, মোটেও না। এ বই হলো সেই বই যা যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ চিন্তাশীল, জ্ঞানী ব্যক্তিরা লিখে গেছেন।

‘আত্মার ওষুধ’ এ কথাটি গ্রিসের থিবসের লাইব্রেরির দরজায় খোদাই করা আছে। অর্থাৎ আত্মাকে প্রশান্ত করতে পারে বই। বই পড়ে মানুষ মুক্তভাবে নিজের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে পারে।

আমাদের এ চার দেয়ালে ঘেরা যান্ত্রিক শহর বড় বিষণ্ণতায় ঘেরা। এখানে মানুষগুলোও যান্ত্রিক। যেন এখানে মানবিক মানুষ খুঁজে পাওয়া বড়ই দুষ্কর। সবুজে ঘেরা সুন্দর শ্যামল পৃথিবীটাকে উপলব্ধি করতে পারাও এ শহরে কঠিন।

একটি চীনা প্রবাদ আছে, “একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা।” একমাত্র বইই পারে আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করাতে। আমাদের মাঝে মানবিকতা সৃষ্টি করতে।

আমরা পড়েছি, 'সুশিক্ষিত লোক মানেই স্বশিক্ষিত।‘ মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারে একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমে। কারণ এখানে মুক্তভাবে অবাধ বিচরণ করে জ্ঞান আহরণ করা যায়। তাই আমাদের স্বশিক্ষিত হতে, নিজেদের মধ্যে মানবিকতা সৃষ্টিতে এবং আত্মার প্রশান্তিতে অনেক অনেক বই পড়া উচিৎ।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত