আমার কথা

তওশিক ইসলাম অর্নি (১৭), ঢাকা

Published: 2019-08-17 20:57:04.0 BdST Updated: 2019-08-17 20:57:04.0 BdST

প্রত্যেক সন্তানের জীবনে একজন মুকুটহীন হিরো থাকে। তিনি হলেন বাবা। তিনি স্বপ্ন দেখান, স্বপ্ন পূরণ করেন, কাঁধ চাপড়ে ভরসাও দেন।

ঘটনাটা কয়েক বছর আগের। আমার কাজ-কর্ম, জীবন-ধারা তখন বয়ঃসন্ধির খপ্পরে। সহপাঠী শিহাব একটি নতুন সাইকেল নিয়ে স্কুলে আসে

এসেই সে আমাকে বলে, ‘দোস্ত দেখ, নতুন সাইকেল। আব্বা কিনে দিয়েছেন। কোর প্রজেক্ট ২.৯’, ফুরফুরে ভঙ্গি নিয়ে বলল শিহাব।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, দাম কত রে? একটু ভাব নিয়ে সে বলল, ‘২৮ হাজার টাকা।’

কী এক অদ্ভুত কারণে সেদিন স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে বিষণ্ণ হয়ে গেলাম। শিহাব সাইকেল কিনল, শান্ত কম্পিউটার কিনল। আমার তো কিছুই নাই। মনে মনে ভাবছি বাবার কাছে সাইকেল চাইব,তাকে দিতেই হবে কিনে। ভাবতে ভাবতে বাসায় এলাম।

সন্ধ্যায় বাবাকে বলে বসি-আব্বু, আমার একটা সাইকেল লাগবে। কোর প্রজেক্ট ২.৯ মডেলটা।

আব্বু জবাব দিলেন, ‘বড় হয়ে নে, তারপর দিব। এখন চালালে পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙবি। এত টাকা দিয়ে আপদ কিনে লাভ নেই।’

এরকম নানা কথা বলে বাবা আমাকে প্রত্যাখ্যান করে দেন। বড় অভিমান করে বসি আমি। বাবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিই। সেদিন রাতে ভাতও খাইনি।

রাতে আমাকে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে বাবা বোধ হয় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। পরদিন সকালেও নাস্তা না করে স্কুলে যাই। বাবা কিছু বলতে চায়, কিন্তু তা পাত্তা না দিয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে আসি আমি।

দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরেই অবাক হতে হল আমাকে। সেই অনুভূতি বোঝানোর মত না। এসেই বাসার সামনে দেখি একটা নতুন কোর প্রজেক্ট ২.৯ মডেলের সাইকেল। সঙ্গে একটা চিরকুটও পেলাম। তাতে লেখা, ‘বাবার সাথে রাগ করে থাকলে যে তোর বাবা বাঁচবে না। আমি তো তোর জন্যই বাঁচি রে। এই নে তোর সাইকেল।’

পরিবারের সকল ভার বহন করা মানুষটা আমার বাবা। তবুও আমাকে ঠিকই এনে দেন ২৮ হাজার টাকার সাইকেলটি। সুপার হিরো হতে গেলে সম্ভবত বাহারি জামা কিংবা মুকুট লাগে না। আমার জীবনের সুপার হিরো লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা আমার বাবা।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত