আমার কথা

শেখ আব্দুল্লাহ ইয়াছিন (১৬), চট্টগ্রাম

Published: 2019-07-27 17:18:32.0 BdST Updated: 2019-07-27 17:26:35.0 BdST

আমাদের সমাজে শিশুদের অবজ্ঞা ভরে দেখা হয়।

সেদিন মসজিদে নামাজ শেষ হতেই পেছন থেকে কাউকে শাসানোর শব্দ শুনতে পেলাম।

দেখলাম মসজিদের হুজুর ছোট ছোট বাচ্চাদের ধমক দিচ্ছেন। তিনি কড়া ভাষায় বাচ্চাদের মসজিদে আসতে মানা করে দেন। তাদের অপরাধ তারা নামাজ না পরে খেলাধুলা করছিল।

এটা আজকের নয় প্রায় সব সময়ের ঘটনা। তবে অন্য কেউ এমনটি করলে অবাক হতাম না মোটেও কিন্তু বড় হুজুরও এমন করায় অবাক হয়েছি অনেক।

আব্বু প্রবাসী ছিলেন। আমার যখন ১০বছর তখনই প্রথম আব্বুকে দেখি। আব্বুকে কাছে পেয়ে তার কাছাকাছি থাকতে চাইতাম সব সময়। তিনি যেখানেই যেতেন আমাকে নিয়ে যেতেন, না নিয়ে গেলে আমি বায়না ধরতাম। একমাত্র ছেলে বিধায় স্নেহটাও ছিল অনেক।

একদিন আব্বুর সাথে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। আব্বুর সাথে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়েছি আমিও  কিন্তু নামাজ শুরুর আগে আমাকে একদম পেছনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমার খুব কান্না পেয়েছিল সেদিন।  আব্বু এমন আচরণে অবাক হয়েছিল কিনা জানি না তবে পরে উনি ও পেছনে চলে আসেন। সেদিন আব্বু বলেছিলেন, সৌদি আরবে ছোটদের তাচ্ছিল্যের সহিত দেখা হয় না, তাদের ফেরেশতা ভাবা হয়।

আমাদের সমাজে শিশুদের ছোট করে দেখা হয়। তারা বাড়িতে কিংবা মাঠে খেলাধুলা করলে এতেও যেন বড়দের হাজার বারণ। বিকালে আমি যখন খেলতে বের হই আমার পাশের বাসার আট বছরের চাচাত ভাইটির তখন বই নিয়ে বসতে হয়। আবার কখনও কখন মাঠে এলে তাদের শাসানো হয়।

শিশুদের থেকে এমন ভাবে শৈশব কেড়ে নিলে তারা কী নিয়ে বেড়ে উঠবে? তাদের মেধাবিকাশ, বেড়ে ওঠা কতটুকু সম্ভব?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত