আমার কথা

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৫), রাজশাহী

Published: 2019-06-19 16:53:10.0 BdST Updated: 2019-06-19 16:53:10.0 BdST

একটা বছর আসে অন্য বছরকে পেছনে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে পেছনে পড়ে যায় অসংখ্য স্মৃতি। জন্মদিনও তাই।

আম্মু বলেছেন, আমার জন্মের দিনটা ছিল সোমবার। ১৮ জুন, রাত দেড়টায় আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম এই সুন্দর পৃথিবীর ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশের রাজশাহী শহরে।

প্রতিবছরই আমার জন্মদিনে ফেইসবুকে  অনেকে উইশ করে। গতবছর আমি ফেইসবুকে আমার জন্মদিনের তারিখটা হাইড করে দেখতে চেয়েছিলাম, কারা কারা আমার জন্মদিন মনে রেখেছে!

পরে দেখলাম, ফেইসবুকে যাদের সঙ্গে আমার এতো এতো কথা হয়, তারাই আমার জন্মদিন মনে রাখেনি। অথচ যাদের সঙ্গে দিনে একবারও কথা হয় না, তারাই আমার জন্মদিনের কথা মনে রেখেছে।

যাদের সঙ্গে দিনে একবারও কথা হয় না, সেই তালিকায় ছিলেন আমার বড় বোন লিজা আপু, আব্বু ও আম্মু। 

আপন রক্তের মানুষগুলো জীবনের নানাধরনের ঘাত-প্রতিঘাতে পাশে থাকে। সোশ্যাল সাইটে লোকজনের উটকো প্রেম বাস্তবে কোনো কাজে আসে না বলে আমার মনে হয়।

নিজের জন্মদিন নিয়ে আর্টিকেল লেখার ইচ্ছে আমার কখনোই ছিল না। গতবারের মতো এবারেও সোশ্যাল সাইটে আমার জন্মদিনের তারিখটা হাইড করা আছে।

জন্মদিনটা উপলক্ষ্য হলেও এই আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছুদিন আগে আমার জীবনে ঘটে গেছে এক দারুণ মুহুর্ত। সেটাই সবাইকে জানাতে চাই।

এই মাসের ১০ জুন, রাত আড়াইটার দিকে আমার বড় বোনের ছেলে হয়েছে। সেই হিসেবে আমি মামা হয়ে গেছি।

দুই মাস আগে ডাক্তার এই শিশু জন্মের সম্ভাব্য ডেট দিয়েছিলেন ১৮ জুন, মানে আমার জন্মদিনের তারিখে। দুঃখজনকভাবে সেটা হয়নি।

মনটা একটু খারাপ হলেও আমি এটা ভেবে খুশি যে মামা-ভাগ্নের জন্মতারিখের পার্থক্যটা মাত্র একটা সপ্তাহের।

আমার ভাগ্নের বয়স এখন এক সপ্তাহের মতো। এখনো কোনো নাম রাখা হয়নি। তাই আপনাদের ভাগ্নের নামটা জানাতে পারলাম না।

১৭ জুন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজদের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেলো বাংলাদেশ। এটা আমার জন্মদিনের একটা উপহার ধরে নিলাম।

আমার জীবনে প্রত্যেকটা জন্মদিনই এসেছে প্রজ্জ্বলিত শিখা হয়ে। এই জন্মদিনের কথাটাই বলি, জন্মদিনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে আমি মামা হবার সুখবর পেয়েছি। 

জন্মদিনে স্রষ্টার কাছে শুধু এটুকুই চাই, আমার প্রতিটা জন্মদিনে যেন নেমে আসে আলোক শিখার ফল্গুধারা নিয়ে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত