আমার কথা

পৃথা প্রণোদনা (১৬), ঢাকা

Published: 2019-06-15 17:49:21.0 BdST Updated: 2019-06-15 17:49:21.0 BdST

ছোটবেলা থেকে আমাদের ইংরেজি বইয়ে একটা অনুচ্ছেদ ছিল, ‘এ্যাডভানটেজ এ্ন্ড ডিসএ্যাডভানটেজ অফ সিটি এন্ড রুরাল লাইফ।’

এই অনুচ্ছেদের মধ্যে গ্রাম ও শহরের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হতো এবং এখানে গ্রামের তুলনায় শহরকে বেশি উন্নত বলে মনে করা হতো।

হ্যাঁ, বর্তমান বিশ্বে অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন শহরে বাস করে। তবে দুঃখের বিষয় হলো শহরে এখনো বিত্তবৈভব ও চরম দরিদ্রতা সহাবস্থান করে। আজও দরিদ্রতার চরম শিকার শিশুরা।

একটা শিশুকে যদি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্হান, চিকিৎসা, শিক্ষা এই পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কী তাকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা খুব কঠিন?

এখনো বস্তিতে বসবাসরত বেশিরভাগ শিশুর থাকার জন্য উপযুক্ত ঘর নেই, নেই পরিষ্কার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা নেই।

এছাড়াও রয়েছে নিরাপওার অভাব, শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব। সমাজের বিশৃঙ্খলা ও হানাহানির মধ্যে দিয়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এই নিষ্পাপ শিশুদের জীবন। সেখানে লেখাপড়া তো স্বর্গীয় বিষয়।

আজও পথশিশুরা ও কর্মজীবি শিশুরা সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকির মুখে থাকে।

যেই সময় শিশুদের পাখির মতো পাখা মেলার কথা, রঙিন ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ানোর কথা, রঙিন তুলি দিয়ে তার জীবনের স্বপ্ন আঁকার কথা সেখানে আজ তারা দারিদ্র্যের বেড়াজালে বন্দি। জীবনই তাদেরকে কঠিন পরীক্ষার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এই পরীক্ষার সাথে লড়তে গিয়ে ঝড়ে যাচ্ছে এই ছোট্ট শিশুদের স্বপ্নগুলো।

শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ইত্যাদি কারণে জীবনের সব রঙিন স্বপ্ন অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে, অপমৃত্যু ঘটছে শিশুর স্বপ্নের, আশা-আকাঙ্খার। যদি এভাবেই শিশুদের স্বপ্নগুলো ভেঙে যেতে থাকে, তাহলে কী করে তারা ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখবে?

শিশুদের এই স্বপ্নগুলো কী এতটাই তুচ্ছ? আসুন এক সুন্দর সমাজ গড়তে পাশে দাঁড়াই এই ছোট্ট শিশুদের।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত