রেলগাড়ি ঝমাঝম - hello
আমার কথা

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৫), রাজশাহী

Published: 2019-05-26 13:12:30.0 BdST Updated: 2019-05-26 13:12:30.0 BdST

ট্রেন ভ্রমণ আমার কাছে খুব পছন্দের। কোথাও ঘুরতে গেলে যদি সেখানে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তবে আমি সে সুযোগ সহজে হাতছাড়া করি না।

নটরডেম কলেজে আমার পরীক্ষা ছিল ১৭ মে। আর সেজন্য ১৬ মে আমাকে ঢাকা যেতে হয়।

গত ২৫ এপ্রিল রেলমন্ত্রণালয় রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন আন্তঃনগর 'বনলতা এক্সপ্রেস' ট্রেনের উদ্বোধন করে। উদ্বোধনের দিন থেকেই আমার মনে এই ট্রেনে ভ্রমণের সুপ্ত বাসনা জেগেছিল।

ভ্রমণের কয়েকদিন আগেই আমি অনলাইনে 'বনলতা এক্সপ্রেস' ট্রেনের টিকিট কেটে নিই। কিন্তু ভ্রমণের দিন ঘটে বিপত্তি।

ভ্রমণের দিন সেহরি খাওয়ার পর আমি জানতে পারি, পরীক্ষার রুমে এসএসসির অ্যাডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা আমি গ্রামের বাসায় রেখে আসছি।

শহর থেকে আমাদের গ্রাম প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে। গ্রামে যেতে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে আমার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। এদিকে মোটামুটি দুই ঘণ্টা পর ট্রেন ছেড়ে যাবে।

'কী করি আজ ভেবে না পাই' অবস্থা আমার। তারপর কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম, 'বনলতা এক্সপ্রেস' ট্রেনের টিকিটটা বিক্রি করে দিয়ে বিকেলের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবো।

সিদ্ধান্তটা এরকম ছিল, যদি টিকিটটা বিক্রি হয়ে যায়, তবে আমি বিকেলের ট্রেনে ঢাকা যাব। যদি না হয়, তবে আমি এই ট্রেনেই ঢাকা চলে যাবো। পরে আমার আব্বু অ্যাডমিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেবেন।

স্ক্যান করে আর পাঠাতে হয়নি, টিকিট কাউন্টারে আমি এমন একজনকে পেয়েছিলাম যিনি সেদিনের বনলতার ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছিলেন। আমি উনার কাছে আমার টিকিটটা বিক্রি করে দিলাম।

বনলতায় ভ্রমণের আমার বেশ ইচ্ছে ছিল। ঐদিন আমার অনেক বন্ধুও ছিল ঐ ট্রেনে। তাই টিকিট বিক্রির পর আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেলো।

অতঃপর আমি তড়িঘড়ি করে গ্রামের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। অল্প কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবার শহরে চলে আসলাম।

শহরে এসেই "রেল সেবা" অ্যাপ থেকে বিকেল ৪ টার 'পদ্মা এক্সপ্রেস' ট্রেনের টিকিট কেটে নিলাম। যথাসময়ে স্টেশনে উপস্থিত হলাম, আর যথাসময়ে ট্রেনটি ছেড়ে গেলো।

ট্রেনে আমার এক সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হয়। ওর সঙ্গে পুরো পথ গল্প করতে করতে গিয়েছিলাম।

রাত পৌনে ১১ টার দিকে ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছিল। স্টেশনের সামনে আমার এক কাকু বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

কাকুর বাসাটা বাসাবো, কদমতলা ব্রিজের কাছে। আমি সেখানে তিনদিন-তিনরাত ছিলাম। ঢাকায় শেষবার এসেছিলাম ক্লাস টুতে পড়ার সময়।

ঢাকার কথা শুনলেই আমার জ্যামের ভয় লাগে। ঢাকায় আমি যেখানে ছিলাম সেখানে জ্যাম বেশ কম। যদিও  নটরডেমে পরীক্ষা দেওয়ার সময় ও স্টেশনে টিকিট কাটতে যাওয়ার আমি ১৫-২০ মিনিটের জ্যামে পড়েছিলাম।

এতটুকু সময়ের জ্যাম ঢাকাবাসীর কাছে কিছুই না। কিন্তু আমরা যারা জ্যামহীন পরিবেশে বড় হয়েছি, তাদের কাছে অনেক কিছু।

নটরডেমে আমার চান্স হয়নি। যা হয় হয়তো ভালোর জন্যই হয়। ঢাকাতে শুধু তিনদিন থেকেই আমার প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লেগে গেছে। জ্বর, সর্দি সঙ্গে প্রচণ্ড কাশি।

১৯ তারিখ সন্ধ্যায় 'বনলতা এক্সপ্রেস' ট্রেনে চেপে রাজশাহী এসেছি। এই কয়েকদিন বেশ অসুস্থ ছিলাম। তাই অভিজ্ঞতার কথা লেখা হয়ে উঠছিল না।

ঢাকার যানজট সমস্যা, পানির সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো যাতে দ্রুত সমাধান হয় সেই কামনা করি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত