আমার কথা

তাহমিদুজ্জামান রাফি (১৭),  মৌলভীবাজার

Published: 2019-02-24 20:30:36.0 BdST Updated: 2019-02-24 20:31:58.0 BdST

নানা বাড়ি সবার প্রিয় জায়গা। বড় হতে গিয়ে ধীরে ধীরে জায়গাটার সঙ্গে দূরত্বও বেড়ে যায় কারো কারো। তবে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি সেখানে জড়িয়ে থাকে।

ছোটবেলায় আম্মু কবে নানাবাড়ি নিয়ে যাবেন গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম৷ আমি হলাম নানা বাড়ির সবার আদরের৷ বিশেষত, আমি তাদের নাতি নাতনিদের সবার বড়।

যতদূর মনে পড়ে একদিন দুপুরে উঠানে খেলছিলাম। নানু ঘরের জানালা দিয়ে আমার পাশে সাপ দেখতে পান। উনি দৌড়ে এসে সামনে থাকা কোদাল দিয়ে সাপটাকে মেরে ফেলেন। প্রাণি হত্যা পাপ বা সাপ যে তাকেও ছোবল দিতে পারত এটা তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন। নয়তো সেদিন কী দুর্ঘটনা ঘটত আমি ধারণাও করতে পারি না।

এক অগ্রহায়ণ মাসের কথা! নানা বাড়িতে যাওয়া হয়েছিল। পাকা ধান ঘরে তুলতে সবাই ব্যস্ত। মামা ধান কাটার জন্য কয়েকজন লোক এনেছিলেন। তারা জমি থেকে ধান কেটে মাড়াই করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। তাদের কাঁধে পাকা ধান তুলে নেওয়া দেখে আমিও চেষ্টা করেছিলাম।  এরপর সারারাত সে কী কাঁধ ব্যথা! সঙ্গে সবার বকুনিও।

ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ আগের মতো কোথাও শোনা যায় না৷ নানু পিঠা তৈরির জন্য ঢেঁকি ব্যবহার করতেন। আমি ঢেঁকির নিচ থেকে ভাঙা চাল নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত দিয়ে তুলে দিতাম। কী আনন্দ না ছিল! সেই ঢেঁকি এখন আর নানাবাড়িতেই নেই।

নানা মাঝে মধ্যে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। একদিন আখ থেকে রস সংগ্রহ করা দেখতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে আখ যাঁতাকলে দিয়ে একটি ষাঁড়কে কলের একটি অংশে বেঁধে চোখ বন্ধ করে ঘোরানো হয়। জায়গা ঘুরতে দেখা যায়। একটু একটু করে কলের মুখ দিয়ে রস বের হচ্ছে। সেই রস একটি পাত্রে সংগ্রহ করা হয়। আমাকে আখ চাষী এক গ্লাস রস খেতে দিয়েছিলেন। ষাঁড়টির কষ্ট দেখে খুব খারাপ লেগেছিল।

আবার একবার অনেক পথ হেঁটে মামার সঙ্গে রাতে বাজারে গিয়েছিলাম৷ সপ্তাহে দুদিন বাজার বসতো ওখানে। বাজারে মাছের আড়তসহ সব ধরণের আড়ত ঘুরে ঘুরে দেখা হতো৷ আমার পছন্দ করা মাছ মামা কিনে বাড়িতে নিয়ে যেতেন৷ পরীক্ষায় গ্রামের বাজার অনুচ্ছেদে এই বাজার সম্পর্কে লিখেছিলাম।

কয়েক বছর হলো নানা চলে গেছেন। ছোটবেলার নানাবাড়িতে আনন্দময় স্মৃতির শেষ নেই। বড় হয়ে যাচ্ছি, আগের সময়ে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু মামাবাড়ির আবদার অন্য কোথাও কি পাবো?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত