আমার কথা

জুলকার নাঈন করিম (১৫), ঢাকা

Published: 2018-08-19 15:40:23.0 BdST Updated: 2018-08-19 15:44:12.0 BdST

তারুণ্যই শক্তি। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ একদিন পৃথিবীর বুকে স্থান পাবে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু সে পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচার। তাই দেশের উন্নয়নে প্রয়োজন মেধাপাচার রোধ।

সাধারণত মেধা পাচার বলতে উন্নয়নশীল দেশসমূহের শিক্ষিত মেধাবীদের উন্নত জীবন যাপনের জন্যে উন্নত দেশে অভিবাসন এবং কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়াকে বোঝায়। এর পরিণতি তাদের নিজ দেশের জন্য ভয়াবহ।

মেধাপাচারের ফলে দেশ হারায় তার মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিকদের। দেশে দেখা যায় প্রকৃত মেধার সংকট। ফলশ্রুতিতে দেশ পিছিয়ে পড়ে বৈশ্বিকভাবে।

সম্প্রতি আমাদের দেশে এ সমস্যা ভীতিকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই এদেশ থেকে শিক্ষার্থী্রা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু তাদের অনেকেই উন্নত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে।

প্রায়ই বন্ধুরা বলে, এদেশে থেকে কি হবে? এখানে তো মেধার কোনো মূল্যায়ন নেই। তার চেয়ে ভালো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা কানাডায় চলে যাই। এটা শুধু তাদেরই ভাবনা নয়, পুরো তরুণ সমাজেরই চিন্তাধারা আজ প্রায় একই।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মেধা বিকাশ এবং গবেষণা ক্ষেত্রের সুযোগের অভাব ইত্যাদি নানা কারণে তরুণরা আজ হতাশ। আর রাষ্ট্রও সেভাবে মেধাবীদের দেশের কাজে ব্যবহার করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে হচ্ছে মেধাপাচার।

তবে তরুণদের একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, মাতৃভূমির প্রতি সবারই এক ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে দায়বদ্ধতাকে দূরে সরিয়ে কোনোভাবেই আমাদের অন্য দেশের হয়ে কাজ করা ঠিক নয়। খুবই কষ্ট লাগে যখন শুনি, আমাদের দেশের তারুণ্যশক্তিকে ব্যবহার করে অন্য কোনো রাষ্ট্র উন্নত হচ্ছে।

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এ অবস্থার দ্রুত বদল প্রয়োজন। সেজন্যে রাষ্ট্রকে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব তরুণ বাইরে আছে তাদের ফিরিয়ে এনে তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার প্রসার বাড়াতে হবে। সরকারি চাকরিতে প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে দেশে মেধাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

তবেই তরুণদের মেধার দ্যুতিতে আলোকিত হবে দেশ এবং এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত