আমার কথা

দ্বীন মোহাম্মাদ সাব্বির (১৬), সিরাজগঞ্জ

Published: 2018-08-09 16:50:49.0 BdST Updated: 2018-08-09 18:18:04.0 BdST

স্বদেশ বা মাতৃভুমি সবার কাছেই প্রিয়। দেশের মাটি, পানি, বায়ু, আলো ছায়া সবাই ভালোবাসেন। দেশকে ভালোবাসেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। যে মানুষ নিজ দেশের ভালো চায় না, নিজ দেশকে ভালোবাসে না তাদের আমার ঠিক মানুষ মনে হয় না।

আমার জন্ম বাংলাদেশে। আমার শৈশব কেটেছে এই বাংলার হাটে, মাঠে, ঘাটে। কৈশোরও এই বাংলার বুকেই। তাই স্বদেশের প্রতি আমারও রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। আমিও সর্বদাই চাই আমার দেশকে, শিক্ষা পরিবেশসহ সবদিক থেকে গোছানো দেখতে।

আমার মনে হয় দেশকে সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পুর্ণ করতে আমাদের দেশের ছাত্রসমাজ একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউনিসেফ ও পরিসংখ্যান ব্যুরো অব বাংলাদেশের তথ্য মতে, বাংলাদেশের (১০-১৯) বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের সংখ্যা ৩৬ মিলিয়ন যা মোট জনসংখ্যার ২২.৫%। এছাড়াও প্রতিটি মানুষের ছাত্রজীবন তার সারাজীবনের একটি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। তাই এখান থেকেই যদি তাদের মাঝে দেশের উন্নতির একটি প্রত্যয় জাগিয়ে তোলা যায় তাহলে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

এই কিশোর শক্তিকে যদি আমরা যথাযথভাবে গড়ে তুলে তাদেরকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে একদিনে না হোক কিছু দিন পর আমরা দেখতে পাব বদলে গেছে চারপাশ।

আমাদের দেশে ঢাকাসহ অনেক নগরী ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে যার জন্য নগরীর বাহ্যিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, স্বাস্থ্যঝুঁকিরও সম্ভাবনাও থেকে যায়। কিশোররা রাস্তায় নেমে গেলে দেখা যাবে এখানেও পরিবর্তন আসছে।

নিরাপদ সড়কের জন্য ছাত্ররা নিজেরাই রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশেয় দায়িত্ব পালন করেছে, ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ চালকদের উচ্ছেদ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছে। যা ইতোমধ্যেই টিভি, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশাল সাড়া ফেলেছে।

এই ছাত্র সমাজ যদি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের মতো এত বড় একটি ইস্যু বাস্তাবায়ন করতে সক্ষম হয়। তাহলে তারাই পারবে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অন্য সামাজিক সমস্যাগুলোও দূর করতে।

এই তরুণশক্তি বা ছাত্রসমাজ যদি চায়, যে শিশুরা লেখাপড়া করতে পারছে না তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেবো শিক্ষার আলো তাহলে কমে যাবে নিরক্ষরতার হার। যা বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রস্ফুটিত করতে ভূমিকা রাখবে।

এই তরুণ শক্তি চাইলে আইন মানবে সব আইন। শুধু তারা সচেতনতা তৈরির দায়িত্ব নেবে। আজ আমি আমার জায়গা থেকে সচেতন হব, দু'জনকে সচেতন করব, এভাবেই তরুণের শক্তি ছড়িয়ে পড়বে।

এই ছাত্রসমাজ ১৯৫২ সালে ফিরিয়ে এনেছিল মুখের ভাষা। ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতা সংগ্রামের বা বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জনে ছাত্রসমাজের অসামান্য অবদান ছিল। এই ছাত্রসমাজই পারবে এ দেশকে বদলে দিতে, তারাই পারবে এই বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত