আমার কথা

শেখ আব্দুল্লাহ ইয়াছিন (১৫), চট্টগ্রাম

Published: 2018-07-17 16:01:06.0 BdST Updated: 2018-07-17 17:04:51.0 BdST

অনেক অনেক দিন আগের কথা। সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যমলা আমাদের এ চির সবুজ বাংলাদেশ। বড়ই বিচিত্র এ দেশ। ঠিক তেমনি বিচিত্র আমাদের, শিশুদের বিনোদন।

এদেশের ষড়ঋতুও কম বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়। তাই এদেশীয় শিশুদের খেলাধুলার পছন্দও ঋতুর সঙ্গেই বদলায়। একেক ঋতুতে শিশুরা খেলে একেক খেলা।

গ্রীষ্মের কাঠফাটা রৌদে তাদের পছন্দ বৌচি, গোল্লাছুট, হাডুডু, ইত্যাদি। হেমন্তকালে যখন ধান কাটা হলে ফাঁকা ক্ষেতে শিশুরা ক্রিকেট পিচ করে নেমে পড়ে ক্রিকেট খেলায়।

আর শীতের রাতে আলো জ্বেলে ব্যাডমিন্টন খেলার মজা তো আছেই। এছাড়াও আছে ডাংগুলি, মার্বেল খেলা, দাড়িয়াবান্ধা, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি।    

বর্ষাকালেও খেলা থেমে থাকে না। শিশুদের বিনোদনে বৃষ্টি কোনো বাধাই নয়। বরং মাঠে পানি জমে গেলে সেখানেই ফুটবল জমে ওঠে। শুরু হয় পুকুরে ঝাঁপানো।

ফুটবল যেন বর্ষার জনপ্রিয় খেলা। বৃষ্টির দিনে কোনো খেলা ছাড়াই কাদাপানিতে গড়াগড়িতেও শিশুদের অপার আনন্দ। আর কাদা মেখে কাবাডি খেলার মজাই আলাদা।  

বর্তমানে ক্রিকেট সারা বছরের খেলা হলেও আগে ক্রিকেট যখন তেমন জনপ্রিয় হয়নি, শিশুরা মায়ের বকুনির ভয়ে ঘর থেকে বের হতে না পারলে ঘরে বসেই ক্যারাম, দাবা, লুডো, ষোলোঘুটি ইত্যাদি খেলত। এখন সেসব খেলা প্রায় হারাতে বসেছে।

এখন কী গ্রাম কী শহরে শিশুদের খেলনা হলো মোবাইল ফোন। তারা মাঠে এলেও দল বেঁধে কোনো খেলা নয়, একাকী মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকেই তাদের সময় কাটে।  

এর কারণ, শিশুদের জন্য যথেষ্ট মাঠ নাই, তাদের কথা বলার সঙ্গী নাই। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট, মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, প্লে স্টেশান, শহুরে ছেলেদের সঙ্গী।

গ্রামীণ শিশুরাও পিছিয়ে নাই। তাদেরও মাঠে যাবার খুব আগ্রহ দেখা যায় না। তাদের হাতেও মোবাইল আর তাদের সঙ্গীও ফেইসবুকের ভার্চুয়াল বন্ধু বা মোবাইল গেইমস।

মা বাবাও ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল তুলে দিতে খুব যে ভাবেন তা নয়। সময়ের দাবি তারাও মেনে নিয়েছেন। বিত্ত অনুসারে যার যার ছেলেমেয়ের আছে, মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্লে স্টেশান ইত্যাদি।

এর বাইরে টিকে আছে তাদের স্কুল। আর স্কুল চায় জিপিএ ৫। মা বাবাও তাই চান শেষ পর্যন্ত। এতে আমরা শিশুরা রোবটে পরিণত হচ্ছি। বেড়ে উঠছি আত্মকেন্দ্রিক, অসামাজিক জীব হিসেবে। মা বাবা আর বাড়ির কাজের লোক আমাদের পরিচয়ের সীমানা। এতে যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা কী বড়রাও বুঝতে পারেন না?

বারো বছরের এক শিশুকে খেলার কথা জিজ্ঞেস করলে, সে ফিরে আমায় প্রশ্ন করে বসল, ভাই খেলার সময় কোথায়?

সে জানাল সকাল আটটা থেকে তার ক্লাস শুরু হয় বিকাল দুইটায় ছুটি। বিকেলের ফ্রি সময়টা প্রাইভেট বা কম্পিউটারে গেমস খেলে কিংবা ফোনে বন্ধুদের সাথে খোশগল্পে কেটে যায়।

এই যখন অবস্থা, তাহলে আমরা শিশুরা কী যথার্থ মানুষ হয়ে উঠছি না কি রোবট?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত