আমার কথা

এস,এম মানজুরুল ইসলাম সাজিদ (১৩), বাগেরহাট

Published: 2018-07-03 13:22:50.0 BdST Updated: 2018-07-03 13:22:50.0 BdST

দিনটা ছিল ২৭ জুন, মঙ্গলবার। দুবছর আগের কথা। আমি তখন বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছিল।

সেদিন ছিল সামাজিক বিজ্ঞান পরীক্ষা। মুজিবুর রহমান স্যার এসে বললেন, ‘স্কুলে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন হবে। আগ্রহীরা মা বাবার অনুমোদন নিয়ে দুইদিনের মধ্যে নামধাম জমা দেবে।’

এটা রাজনৈতিক কোনো নির্বাচন নয় শুনে আব্বু রাজি হলেন কিন্তু আম্মু কিছুতেই মত দিচ্ছেন না।

কোনোভাবে আম্মুকে বুঝিয়ে নাম জমা দিলাম। দুদিন পরেই নির্বাচন। সেদিন পরীক্ষা ছিল না। সব বন্ধুর কাছে ভোট চাইলাম। প্রার্থী ছিলাম তিন জন। রকি উজ জমান, সফরুল আমিন আকাশ আর আমি।

প্রত্যেক প্রার্থীকে একজনকে পোলিং এজেন্ট নির্বাচন করার জন্য বল হল।আমার পোলিং এজেন্ট ছিল সিয়াম আদনান ফাহিম।

বাক্স বানানো হয়েছিল ভোট দেওয়ার জন্য। ভোট গ্রহণ হয়েছিল দুঘণ্টা। তবে সত্যি কথা হলো, ভোটে আমি জিততে পারিনি। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। পরের বছর আর নির্বাচনে নাম দিইনি।

তবে নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষার সদস্যরা ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা তদারকির দায়িত্ব আমাকে দিলেন স্যার।

আরেকটি বছর কেটে গেল। এলো ২০১৮ সাল। আগের থেকেই ইচ্ছা ছিল এবার স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন করব। তবে এবার নির্বাচনটা হয়েছিল গত দুই বছরের থেকে আলাদা। অনেক পরিকল্পনা করি। এবং পকেট খরচের টাকাটা জমা করতে থেকি।

জমা টাকাগুলি ব্যাংকে জমা দিয়ে ফেরার পথে সিয়ামের ফোনে জানলাম, ২৭ তারিখ নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছে।

নমিনেশন পত্র জমা দিলাম। দশম শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগ থেকে আমি বিজ্ঞান থেকে সৈকত ও ইমরান নমিনেশন পেলো।

আব্বুর কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলাম এবং কাগজ, মার্কার কলম, আঠা কিনে তারপর জয়ের কাছে নিয়ে গেলাম। জয় খুব ভালো আঁকে। ও আমার লিফলেট লিখে দিলো। আর মাত্র একদিন বাকি। তায় আবার শুক্রবার। কারও কাছে তেমন করে ভোট চাওয়া হয়নি। বন্ধু রাতুলকে নিয়ে পোস্টারগুলি দেওয়ালে সাঁটালাম।

ভোট চাওয়া বাকি। একমাত্র সহায় ফেইসবুক। ভোট চেয়ে স্টেটাস দিলাম। ফোনেও কয়েকজনকে অনুরোধ করলাম।

নির্বাচনের দিন খুব ভোরে স্কুলে গিয়ে যাকে যাকে পেলাম, ভোট চাইলাম।

তারপর ভোট আর আমার টেনশান শুরু। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই করারা নাই, নিজের জন্য প্রার্থণা করা ছাড়া।

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ফল ঘোষণার সময় এলো। দশম শ্রেণি থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলো। তার মধ্যে আমার নাম শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে লাফ দিয়ে উঠলাম।

ভোটের সংখ্যার দিক থেকে আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম। প্রথম হয়েছিল সৈকত। জিতে খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। সবসময় পাশে থেকে আমার সব থেকে কাছের বন্ধু সিয়াম অনেক সাহস দিয়েছে।

মার্চ মাসের ৪ তারিখ স্কুল খুলেছিল এবং ১৫ মার্চ ছিল কমিটি গঠন। এবার আট জনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচন। আমি আর সৈকত আগ্রহী হলাম। স্যার একটি কাগজে দুইজনের নাম লিখে দিয়ে বললেন, যাকে ভোট দিবে তার নামের পাশে টিক দিও। আটটি ভোটের মধ্য সৈকত পেল তিনটি এবং আমি পাঁচ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলাম।

আজ আমি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কেবিনেটের সভাপতি। আসলে প্রত্যেক কাজের পিছনে অন্যের ভালো করার ইচ্ছা এবং খানিকটা বুদ্ধি লাগে।     

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • আমার ভালোবাসা

    মানুষের জীবনে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো তার নাম। নাম দিয়েই আমরা একজন থেকে আরেকজনকে আলাদা করে চিনতে পারি। আর নিজের নাম ভালোবাসে না বা অন্যের মুখে সে নাম শুনলে ভালো লাগে না এমনটি হতে পারে খুব কম।

  • বগুড়ায় এডওয়ার্ড পার্ক শিশুদের প্রিয় জায়গা (ভিডিওসহ)  

    শিশু-কিশোরসহ বড়রাও বেড়াতে ভালোবাসেন বগুড়া এডওয়ার্ড পার্কে।

  • একাধিক শিশু জন্মানোর ঝুঁকি ও সতর্কতা (ভিডিওসহ)

    প্রায়ই আমরা জমজশিশু জন্মাতে দেখি। কখনো কখনো দুইয়ের বেশি শিশু প্রসব করার ঘটনাও শোনা যায়। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে পরপর তিন নবজাতকের জন্ম দেন বানাইল গ্রামের সুবর্ণা বেগম।