আমার কথা

শাহিন আলম (১৭), সাতক্ষীরা 

Published: 2018-06-06 17:07:35.0 BdST Updated: 2018-06-06 18:38:05.0 BdST

খুলনার কয়রা থানার সুন্দরবন সংলগ্ন চার নং কয়রা গ্রামের ছেলে আবু সাইদ। ওর বয়স  নয় বছর।

এই বয়সে আর সব ছেলেমেয়ের মতো ওরও স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও পরিবারের অসচ্ছলতার জন্য আজ সে ভ্যান চালক।

সাইদের জন্মের পর পরই বাবা ওর মাকে ছেড়ে চলে যায়। জন্মের পর মাও চলে যায়। এখন ও নানীর সঙ্গে থাকে।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই বয়সেই নানা নানীকে দেখতে হয় শিশু আবু সাঈদকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় ভ্যান ভাড়া নিয়ে জীবিকার জন্য ছোটাছুটি। সকালে বের হয় আর বাড়ি আসে দুপুরবেলা। গোসল এবং খাওয়া শেষে আবার বেরিয়ে পড়ে জীবিকার সন্ধানে। কোন কোন দিন বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় ওর।

দিনে তিন থেকে চারশ টাকা আয় করে ও। আয়ের পুরো টাকাই দিয়ে দিতে হয় নানীকে।

স্কুলে যেতে মনে চায় কিনা জানতে চাইলে ও বলে, “স্কুলে গেলে বাড়িতে রান্না হবে না। কারণ, নানা নানী অসুস্থ। তবে ভ্যানে যখন কোন শিক্ষার্থী ওঠে তখন আমার খুব ইচ্ছে করে স্কুলে যেতে।”

এভাবে অভাবের যাঁতাকলে প্রতিনিয়িত পিষ্ট হয় সাইদের মতো শিশুরা। এদের কাছে জীবন ধারণটাই মূখ্য, শিক্ষা হলো বিলাসিতা। অন্যদের মতো শৈশবের আনন্দ উপভোগ করতেও পারে না তারা।

এসব অবহেলিত নিষ্পেষিত শিশুদেরকে যদি সঠিক সময়ে সঠিক পরির্চযা করা হয় তাহলে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্টের একটি বড় সম্পদ হয়ে গড়ে উঠবে। যে শিশু আগামীর নাগরিক সে যদি অরক্ষিত থাকে তবে সমস্ত সমাজই বিপন্ন হয়ে পড়বে। শিশুদের হাতেই রয়েছে আগামী, বাংলাদেশের সম্ভবনার চাবিকাঠি; তাই তাদের গড়ে তুলতে হবে আমাদেরকেই। 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত