আমার কথা

মো. আলাউদ্দীন (১৭), পটুয়াখালী

Published: 2018-04-18 20:56:04.0 BdST Updated: 2018-04-18 21:23:18.0 BdST

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বাড়ি থেকে শত কিলোমিটার দূরে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছি।

সবদিকের কথা চিন্তা করে কলেজের হোস্টলে মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রাবাসে থাকা। থাকতে থাকতে এখানের প্রত্যেকটা মানুষকে আমার আপন মনে হয়। জীবনের হাসির বা কষ্টের কথাগুলো বিনা দ্বিধায় ওদের সাথে বলতে পারি। এখানে প্রত্যেকটি ছাত্র প্রত্যেকের আশ্রয়স্থল। জীবনের খারাপ সময়ে এই বন্ধুরাই পাশে থাকে।

যতবার অসুস্থ হয়েছি ততবার মাথায় পানি দেওয়া থেকে শুরু করে ওষুধ কেনা পর্যন্ত সব, কলেজের বন্ধুরাই করেছে। তাই বন্ধু শব্দটাই অনেক প্রিয় আমার।

দীর্ঘ দেড় মাস পরে বাড়িতে এলাম। এসে শরীরের অবস্থা একটু খারাপ দেখে ফার্মেসি থেকে জ্বরের ওষুধ নিলাম। কিন্তু রাতে জ্বর বেড়ে গেল।

সকালে ডাক্তার দেখাতে গেলাম। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে জানালেন টাইফয়েড হয়েছে। এ কথা শুনে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম। কারণ এই নিয়ে আমার তিন বার টাইফয়েড হয়েছে।

ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। ক্লান্ত শরীরে বিছানায় শুয়ে বসে থাকতে থাকতে কেটে যায় দিন।

অসুস্থ শরীরটার জন্য বাড়ির ভেতরে বন্দি হয়ে গেছি। বাইরে যাবার ইচ্ছা থাকলেও কখনও ঠাণ্ডা বাতাস আবার কখনও  রোদের কারণে বসে থাকি ঘরে।

নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া ও সকালের ইনজেকশন, কষ্টটা আরো বাড়িয়ে দেয়।

অসুস্থ শরীর ও মনে একটু সুখ আনার জন্য ফোনে হোস্টেলের বন্ধুদের সাথে কথা বলি।

মোবাইল ডাটা কিনে ঘুরে আসি হ্যালো, ফেইসবুক ও ইউটিউবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অসুস্থ বলে মা বাবা ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করে। আবার যখন খারাপ লাগে কলেজ বন্ধু সাজ্জাদের কাছ থেকে আনা উইলিয়াম শেকসপিয়রের লেখা হ্যামলেট উপন্যাসের মাঝে ডুবে যাই।

যতক্ষণ পড়ি ততক্ষণ এক অন্যরকম ভালো থাকা কাজ করে। অসুস্থতার কথা ভুলে গিয়ে ভুল করে ভাবি ১৬০১ খ্রিস্টাব্দের কিছু অসাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে তাদের কথা শুনছি।

চৌদ্দটি ইনজেকশনের ছয়টি শেষ হয় পয়লা বৈশাখের দিন। গুগল থেকে আগেই জেনেছিলাম টাইফয়েড রোগীরা এক সপ্তাহের মতো একটু বেশি অসুস্থ থাকে।

তাই মনে আশা রেখেছিলাম পহেলা বৈশাখের দিন ঘুরতে পারবো। কিন্তু তা আর হলো না। অসুস্থ শরীর নিয়ে বাড়ির গাছের ছায়ায় পাটি বিছিয়ে শুয়ে বসে কাটিয়ে দিলাম। তবে এই সময়ে মাথার মধ্যে মেলা চিন্তার জন্ম হলো।

মাথায় প্রশ্ন এলো জীবনের একটি পহেলা বৈশাখ ঘরে বসে কাটিয়েছি বলে খারাপ লাগে কিন্তু যে সব শিশুরা দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতালে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তাদের কেমন লাগে? যেসব শিশুরা পরিবার কী তা জানে না সেসব শিশুদের আজকের দিন কিভাবে কেটেছে? যেসব শিশুরা অসুস্থ শরীর নিয়ে দুমুঠো ভাতের জন্য কাজ করে ওরা সেদিন কেমন ছিল?

আজ একটি সংকল্প করেছি জীবনের বিশেষ দিনগুলোতে শিশু ওয়ার্ড, শিশু সদন, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাথে কাটাব।

হুমায়ুন আহমেদের সেই উক্তিটি মনে পড়ছে। তিনি বলেছেন, “মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ।” তাই মানুষের কষ্টে এগিয়ে যাব।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত