আমার কথা

শেখ নাসির উদ্দিন (১৫), টাঙ্গাইল

Published: 2018-04-09 20:51:34.0 BdST Updated: 2018-04-09 21:04:32.0 BdST

তিন এপ্রিল আমাদের গ্রামের জন্য শোকের দিন। এদিন গোড়ান-সাটিয়াচড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। সঙ্গে একটি কালো পতাকাও উত্তোলন করা হয়।

কেনো কালো পতাকা তোলা হয় সেটা ছোট বেলায় আমার মনে প্রশ্ন জাগাতো। তখন কাউকে জিজ্ঞেস করতাম না। কারণ ভাবতাম জিজ্ঞেস করলে হয়তো বলবে ছোট মানুষ এতো জানার দরকার নাই।

গ্রামের অনেকের কাছে শুনেছি এই গ্রামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। একবার এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ভিডিও করে নিয়ে গিয়েছিল তখন থেকেই আমাদের গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার ইচ্ছে ছিল।

বুদ্ধি হবার পর থেকেই প্রতিবছর তিন এপ্রিল এলে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শোনার জন্য উপস্থিত হই গোড়ান-সাটিয়াচড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে। সেখানে বিকেল বেলা মুক্তিযোদ্ধারা তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেন তাদের বীরত্বগাথা।

মির্জাপুরের গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পেয়ে টাঙ্গাইলের জনতা প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্থান হিসেবে বেছে নেন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রাম।

১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান পাক সেনারা এ রাস্তা দিয়ে গাড়িবহর নিয়ে টাঙ্গাইলের আসছে আর তাদের প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত হন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ইপিআর সদস্যরা।

পাকিস্তানি হানাদানার বাহিনীরা গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় আসা মাত্র চারদিক থেকে আক্রমণ শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ও ইপিআর সদস্যরা। তাদের আক্রমণে তিন শতাধিক পাকসেনা নিহত হয়। হত্যার খবর পেয়ে পাকসেনারা তিন এপ্রিল হেলিকপ্টার যোগে আক্রমণ করে গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রামে। পাক বাহিনীরা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের অনেক বাড়ি ঘর। এ হামলায় ২৯ জন মুক্তিযোদ্ধা, সাটিয়াচড়া গ্রামের ২০ জন, আমাদের গোড়ান গ্রামের ২৪ জন, ইপিআর ও পুলিশ ২৯ জন, পাকুল্লা গ্রামের তিনজনসহ মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামের শত শত নারী-পুরুষকে গুলি করে হত্যা করে পাক সেনারা।

মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে এইসব বীরত্বের গল্প শুনে যেমন আনন্দ পাই তেমনি নির্মম এই হত্যাকাণ্ড বুকে বেদনার ঝড় তোলে।

এইসব শহীদের স্মরণ করতে তিন এপ্রিলকে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস হিসাবে পালন করে গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রামের মানুষ। সন্ধ্যায় সবার সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় কাঙালি ভোজের।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • ইংরেজির বড়াই

    ‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি ভাষার পত্তন’ বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রত্যেক দেশের মানুষেরেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে, নির্দিষ্ট সংস্কৃতি রয়েছে। তবে আজ আমরা অনেকেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছি। বর্তমানে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার তুলনায় আমরা অন্য দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি মেনে চলতে বেশি ভালোবাসি, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি!

  • মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নাই যুদ্ধ সরঞ্জাম (ভিডিওসহ)

    চার বছর আগে টাঙ্গাইলে যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করা হলেও সেখানে এখনও ঠাই পায়নি কোনো স্মৃতি বা যুদ্ধ সরঞ্জাম।

  • ফুটবল নিয়ে কুরুক্ষেত্র 

    খেলা বিনোদনের সেরা মাধ্যম। আমরা চার বছর অন্তর অন্তর ফিফার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকি।