আমার কথা

জুলকার নাঈন করিম (১৪), ঢাকা

Published: 2018-03-12 22:01:35.0 BdST Updated: 2018-03-13 16:58:34.0 BdST

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে কিশোর গ্যাং-এর সংখ্যা। গ্যাং-এ যোগ দিয়ে কিশোররা ইভটিজিং, ছিনতাই, মাদক সেবনের মতো অকাজে জড়িয়ে পড়ছে এবং হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধী।

আমাদের দেশে নিজ পরিবারে একজন কিশোর যেরকমের হৃদ্যতাপূর্ণ বা বন্ধুসুলভ পরিবেশ আশা করে, তা অধিকাংশ পরিবারগুলোয় অনুপস্থিত। সেজন্যে পরিবারের সাথে কিশোরদের মানসিক দূরত্ব ক্রমশই বাড়ছে এবং একটা সময় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মূলত পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতাই এক্ষেত্রে কিশোর গ্যাং তৈরির মূল কারণ।

এরপর পরবর্তী ধাপে তারা মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সমাজ থেকেও। অবশ্য এর পেছনে বেশ কিছু কারণও পাওয়া যায়। একটা সময়ে ঢাকার প্রতিটি অলিগলিতে খেলাধুলার আসর বসতো। বছরের পুরোটা সময়ই এলাকায় কোনো না কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজন হতো। কিন্তু সে সকল আয়োজন আজ যেন নিশ্চিহ্ণ!

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডরে এসবও অভাব কিশোরদের নিজ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলে । বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরবর্তী ধাপে তারা নিজেদের জন্য একটি আলাদা ভিন্নধরনের পরিবেশ খুঁজতে থাকে। এভাবে তাদের সঙ্গে মেলামেশা হয় একই চিন্তাধারার অর্থ্যাৎ সমবয়সী কিশোরদের সাথে। আর সেখান থেকেই গড়ে ওঠে কিশোর গ্যাং।

গ্যাং-এ যোগ দিয়ে দিয়ে কিশোরেরা নানাধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। তারা হয়ে উঠে বেপরোয়া। নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এদের মূল লক্ষ্য। এজন্য তারা খুন-হত্যার মতো ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করতেও পিছপা হয় না।

গেল বছরের ৬ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর উত্তরায় খুন হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির। তার এ করুণ মৃত্যু সাধারণ মানুষদের কিশোর গ্যাং সম্পর্কিত নানা তথ্য জানান দেয়। কিশোর গ্যাং দ্বারা ঘটছে নাশকতার নানা ঘটনা। এসব ঘটনার কিছু কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে আড়ালে।  এদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসফার ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।

গ্যাং এর সদস্যরা কিশোর বয়সে নানা অপরাধে জড়ানোর পর একটা সময়ে সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পারিবারিক বন্ধন বা পরিবেশ যদি সুস্থ হয়, কিশোরদের জন্য সহায়ক হয়, তবে এ বিপথগামীতার হাত থেকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। তাই পরিবারের সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন। মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে অভিভাবকদের।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত