আমার কথা

তাসনুভা মেহ্জাবীন(১৩), খুলনা

Published: 2018-02-22 17:38:03.0 BdST Updated: 2018-02-22 17:43:36.0 BdST

আমাদের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি, স্মৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে রক্তাক্ত এবং অহংকারের একটি দিন।

দিনটি একদিক দিয়ে যেভাবে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে পারার আনন্দ দেয়, অন্য দিক দিয়ে ভাই হারানোর শোকও দেয়। 

একুশের চেতনা সবার মাঝে জাগিয়ে তুলতে প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আয়োজন করে প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। আমি এবার নতুন একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম। সে কথাই আজ বলব।

উপজেলার সমস্ত স্কুলের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা। আগেও এরকম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। তবে সেটি ছিল ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির মধ্যে।  

এবারই আমার প্রথম ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মধ্যে প্রতিযোগিতা। আমি শুরুতে অংশ নিতে চাচ্ছিলাম না। কারণ আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, দশম শ্রেণির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পারব ভাবিনি। কিন্তু শিক্ষকের নির্দেশে অংশ নিতেই হলো।

মঙ্গলবার সকালে আমরা উপজেলা পরিষদে যাই। সাথে আমাদের স্কুলের অন্য দুজন প্রতিযোগী এবং দুজন শিক্ষক।

যথারীতি প্রতিযোগিতা শুরু হলো। সময়, এক ঘণ্টা। বিষয়, ‘ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা’। কিন্তু সমস্যা হলো তখন যখন জানতে পারলাম, পাঁচশ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে। আমার প্রস্তুতি হাজার খানেক শব্দের।

তবু অনেক কেটেকুটে পাঁচশ শব্দে নামিয়ে আনি। পরে শিক্ষকদের সান্ত্বনাতেও মন খারাপটা গেলো না।

দুপুরে রেজাল্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু আমাদের চলে আসতে হয়। কারণ স্কুলে যেতে হবে।
বাসায় চলে আসি। কিছুটা মন খারাপ ছিল। অনেক সময় নষ্ট হলো। বড়দের সাথে তো পারবই না তার ওপর বড় লেখাকে ছোট করলে লেখার সেই মান ঠিক থাকে না!

হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠল। মা কল করেছে। ফোনটা ধরে শুনতে পেলাম মা বলছে, ‘প্রতিযোগিতায় তুমি ফার্স্ট হয়েছ, মা-মণি!’

আমি বিশ্বাসই করতে পারলাম না। মা জানাল যে, শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন এই খবর। পাশাপাশি বুধবারে উপজেলার অনুষ্ঠানে আমাকে যেতে বলা হয়েছে। সেখানেই পুরস্কার দেওয়া হবে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমি প্রায় ১০টির মত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। পুরস্কার পেয়েছি আটটিতে। কিন্তু এবারের পুরস্কারটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের। কারণ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিজের মুখে আমাকে ‘অসাধারণ মেয়ে’ বলেছেন। এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।

 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত