আমার কথা

জায়েদ হাসান সৌরভ (১৫), শেরপুর

Published: 2018-02-12 21:23:19.0 BdST Updated: 2018-02-12 21:23:19.0 BdST

বিদায় মানেই বেদনা। বিদায় মানেই মনের কোনো এক কোণে অজানা ব্যথা। কিন্তু এই বিদায় চির বিদায় নয়। এই বিদায় স্কুল ছেড়ে যাওয়ার। এ ব্যথার মর্মার্থ আমার জানা নেই। হয়তো এটা নির্ভর করে স্কুলের সাথে আত্মিক সম্পর্কের ওপর।

আর সে সম্পর্ক ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।   

যখন আমাদের স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, তখন বড় ভাইদের বিদায় বেদনার পাশাপাশি আমার মনে আর এক বেদনার উন্মেষ ঘটে।

আমি ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী নই ফলে আমার বিদায় নয়। তাই আমার তো আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। তবুও মনের কোথায় যেন অনুভব করি কিঞ্চিত ব্যথা। হয়ত এর পরের বছর এই সময় আমাকেও চলে যেতে হবে সেই অনুভব।

কিন্তু আমি বলি আমরা কেউ এই প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যেতে পারি না। কারণ যখন কলেজে ভর্তি হব বা কলেজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব তখন আমারা এই  স্কুলের নামকে করব সমুন্নত। যেমন গাছ যতই বড় হোক শেকড় ছাড়া যেমন বাঁচতে পারে না, তেমনি ভিক্টোরিয়া একাডেমি স্কুল হলো আমাদের শেকড়। 

আমাদের স্কুলের বয়স ১৩০ বছর। বাংলাদেশের প্রবীণতম বিদ্যালয়ের একটি এ ভিক্টোরিয়া একাডেমি। শেরপুর জেলার জমিদার চারুচন্দ্র রায় বাহাদুর চৌধুরী,  তৎকালীন বৃটিশ রানী, ভিক্টোরিয়ার নাম অনুসারে এই স্কুলের নামকরণ করেন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত এই স্কুল আপন সৌন্দর্যে লালিত।   

এখানকার পাশের হার সর্বোচ্চ। ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ভাষা সৈনিক হাবিবুর রহমান, সৌমিত্র শেখরের মতো ভাষাবিদ এ স্কুলের গৌরব। আছেন অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী।

ভিক্টোরিয়া শুধু স্কুলের নাম নয়। এটি একটি অনুভূতির নাম। যে অনুভূতি লালন করে শেরপুরের সব নাগরিক।

সবশেষে আমন্ত্রণ জানাই নবাগতদের। কারণ তারাই আমাদের নতুন ভিক্টোরিয়ান আমার নতুন অহংকার। আমি আরও গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের পূর্বসুরিদের যাদের অবদানে লিখিত হবে ভিক্টোরিয়ার নতুন গৌরব গাঁথা।

আমি গর্বিত, আমি ভিক্টোরিয়ান স্কুলের ছাত্র।   

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত