আমার কথা

শাহরিয়ার সিফাত (১৭), রংপুর

Published: 2018-01-24 20:29:06.0 BdST Updated: 2018-01-24 20:29:06.0 BdST

জুলাই মাস। তখন মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে কেবল কলেজে উঠেছি। আমার বাড়ি রংপুরে হলেও ভর্তি হই লালমনিরহাটে।

মেসে উঠিনি। বাড়ি থেকেই ক্লাস করতে হতো। আমি প্রতিদিন ট্রেনেই যাতায়াত করতাম। ট্রেনের ঝিক ঝিক শব্দ শুনতে শুনতে জানালা দিয়ে মুখ বের করে দিতাম। প্রকৃতির স্নিগ্ধ বাতাসে দোল খেত মন। 

কখন যে গন্তব্যে পৌঁছাতাম টেরই পেতাম না। অবচেতন মনে ট্রেন থেকে নেমে কলেজ মুখে যেতাম।

প্রতিনিয়ত কত মানুষের সঙ্গে দেখা হতো। কত মানুষের রঙিন চাহনি, কত মানুষের অসহায় চাহনি দেখতে পেতাম। কেউ হয়তো একটু সাহায্যের জন্য ট্রেনের প্রতি বগিতে বগিতে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে একটু সাহায্য পাবার আশায় হাত বাড়িয়ে দেয়। কেউ আবার হরেক রকম জিনিস নিয়ে বগিতে বগিতে ঘুরে বিক্রি করে। এদের মধ্যে শিশুদের জন্যই আমার বেশি খারাপ লাগত। এরা লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে।

বারবার মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জেগে উঠে। কতটা নির্মমতা দেখছে শিশুগুলো। এদের কী ঘর আছে? নাকি রাতটাও কাটে স্টেশনের মেঝেতে? তাদের শীতের রাতগুলো কতটা কষ্টের হয় আমরা কি ভাবি?

কলেজ থেকে একদিন বাড়ি ফেরার সময় স্টেশনে বসে ছিলাম। অনেকেই বসে ছিল ট্রেনের জন্য। এ সময় আমার পাশে বসে থাকা এক আন্টি এক হকার শিশুকে ডাক দিল কিছু একটা কেনার জন্য। উনি কিনে দাম শোধ করতেই ছেলেটাকে কাছে ডাকলাম।

ছেলেটার বয়স ৯ বা ১০ বছর হবে। সঙ্গে হরেক রকম জিনিস। শিশুটির পরনে যে শার্টটি ছিল সে শার্টের চারপাশে পিন দিয়ে অনেক জিনিস আটকানো।হাতের মধ্যেও অনেক জিনিস। জিজ্ঞেস করলাম,পড়াশোনা কর না? পড়াশোনা ছেড়ে এসব করছ কেন? তোমার পরিবার?

ও জানায়, ওর বাবা ওদের ছেড়ে চলে গেছে। অন্য বিয়ে করেছে। আর মাও তার কাছে থাকে না। তাই লেখাপড়া করার সুযোগ নেই।

ওর কথা শুনে আমার বেশ মায়া হলো। কিন্তু আমার তো কিছুই করার নেই। যদি পারতাম এই শিশুটার পড়ালেখার ব্যবস্থা করে দিতাম।

প্রত্যেক শিশুর মাঝেই রয়েছে সম্ভাবনার আলো। কেউ সুযোগ পায় আর কেউ না পেয়ে ঝড়ে যায় কুঁড়িতেই, পথের ধুলায় সব সম্ভাবনাকে মিশিয়ে দেয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত