আমার কথা

এহসানুল কাদির শান্ত (১৫), সাতক্ষীরা

Published: 2018-01-04 20:55:27.0 BdST Updated: 2018-01-04 20:59:57.0 BdST

বার্ষিক পরীক্ষার পরে আমার ছুটির দিনগুলোতে দেশের বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুনে খুব খুশি হলাম। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি এসে পড়ল।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম স্বপরিবারে। ভারতে আত্মীয়-স্বজন থাকায় সেখানে থাকা নিয়ে খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হল না আমাদের।

পৌঁছানোর পর প্রথমদিন বিশ্রাম নিয়ে দ্বিতীয় দিন আমরা বেরিয়ে পড়লাম কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য। প্রায় স জায়গাতেই ঘুরলাম ট্রেনে করে। 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটা ঘুরে বেড়ানোই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল। কারণ পুরো দেশটা ঘুরতে কয়েক বছর লেগে যায় বলেই জেনেছি।

প্রথমেই গেলাম পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায়। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অসাধারণ স্থাপত্য দেখে বিস্মিত হলাম আমরা।

এরপর গেলাম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত নানা স্থান, তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও তার বিখ্যাত কিছু সৃষ্টি দেখার সৌভাগ্য হয় সেখানে।

অপরূপ সুন্দর হাওড়া ব্রিজটিও দেখতে পেলাম। এরপর কলকাতা ছেড়ে মেদিনীপুর জেলায় যাওয়ার জন্য রওনা হলাম দীঘার সমুদ্র সৈকত দেখব বলে।

কলকাতা থেকে সেখানে ট্রেনে যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে । মেদিনীপুর পৌঁছে ভোর পাঁচটায় আমরা বের হলাম সমুদ্রসৈকত দেখতে। সূর্যোদয় খুব কাছ থেকে দেখার জন্য ভীষণ শীতের মধ্যেও হাজার দর্শনার্থীর ঢল দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না। সূর্য ওঠার সাথে সাথে লোকসমারোহ বাড়তে লাগলো।

দুপুরে সমুদ্রে গোসল করলাম। বিকাল বেলায়  ‘অমরাবতী’ পার্কে গিয়ে জীবনে প্রথমবারের মতো রোপওয়ে রাইডে চড়ে ভারতের আকাশে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে রোমাঞ্চিত হলাম।  

দিঘার সায়েন্স সিটিতে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সব খেলা দেখে মুগ্ধ হলাম। আরও দুইদিন মেদিনীপুরের পার্শ্ববর্তী রাজ্য উড়িষ্যার কিছু দর্শনীয় জায়গায় ঘোরাঘুরি চলল। গেলাম তালশারি সৈকত, চন্দনেশ্বর মন্দির।

এরপর আবার ফিরে এলাম কলকাতায়। সেখানে আরও দুদিন থেকে কলকাতার উল্লেখযোগ্য আরও কিছু নিদর্শন দেখলাম। বাংলাদেশ-ভারত ভৌগলিক সীমানার মাধ্যমে আলাদা হলেও, দুই বঙ্গের সংস্কৃতি, ভাষা এবং আচার ব্যবহারে বেশ মিল আছে।

এ সফর আমাকে যতটা আনন্দিত করেছে তার থেকে বেশি পর্যটন ও ভ্রমণ বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছে। আমরা সেই শিক্ষা ও আনন্দ সঙ্গে নিয়ে প্রায় দশ দিনের ভ্রমণ শেষে ফিরে এলাম প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে।

 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত