বাবা আমার শিক্ষক

”বাবা প্রায়ই বলেন, তার জীবনে অসময়ের ঈদ এসেছিল ২০০৮ সালে। আমার জন্মের সময়টাকে বাবা এভাবেই বর্ণনা করেন।”
বাবা আমার শিক্ষক

আমার বাবা রাজধানীর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আমি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান।

বাবা প্রায়ই বলেন, তার জীবনে অসময়ের ঈদ এসেছিল ২০০৮ সালে। আমার জন্মের সময়টাকে বাবা এভাবেই বর্ণনা করেন।

আমার কোডিং, শিশু সাংবাদিকতা, আবৃত্তি, বিতর্কসহ সব সহশিক্ষা কার্যক্রমে বাবা আমাকে উৎসাহ দেন। তার কাছ থেকে আমি অনেক সাহায্য পাই। আমি কম্পিউটার চালানো শিখি বাবার কাছ থেকে। সাংবাদিকতার ধারণাও আমি তার কাছ থেকেই পাই।

বাবা যে স্কুলের শিক্ষক আমি সেখানকার শিক্ষার্থী। অনেক শিক্ষার্থীকে তিনি পড়ান। কিন্তু আমি তাকে শিক্ষক হিসেবে ঘরেও পাই। তার কাছে আমার দৈনন্দিন নতুন নতুন শেখার অভিজ্ঞতা হয়।

বিতর্ক প্রতিযোগিতার স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে শিখেছি তার কাছ থেকে। আমি বেশ ভালো ছবি তুলতে জানি এবং ভিডিও করতে পারি। এটাও আমি বাবার কাছ থেকেই শিখেছি।আগে বাবা আমাকে আবৃত্তিও শেখাতেন।

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও বাবা প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় আমাদের সময় দেন। বাবা আমার সাথে দাবা খেলেন। কখনো আমরা সবাই মিলে লুডু বা অন্য কোনো খেলা খেলি। আমরা এক সাথে গল্পও করি।

লেখালেখি আর বই পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি করেছেন আমার বাবা। আমি যখন প্রথম প্রথম শিশু সাংবাদিকতা শুরু করি, তখন লেখার কোনো বিষয় খুঁজে পেতাম না। বাবা একদিন আমার সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এরপর আমি আমার আশেপাশের বিভিন্ন ঘটনায় ‍সংবাদ খুঁজে পেতে শুরু করি।

আমি প্রচুর বই পড়ি। আমার বাবাও নাকি ছোটবেলায় আমার মতো এত এত বই পড়তেন। তাই আমাকে তিনি কখনো পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলে বই পড়তে নিষেধ করেন না। বরং ভালো বই পড়তে উৎসাহ দেন যাতে আমি পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আরও অনেক কিছু শিখতে পারি। আমি আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io