বিশ্বজুড়ে

জারিফ সিনদিদ (১৪), ঢাকা

Published: 2017-05-07 21:17:58.0 BdST Updated: 2017-05-08 20:19:45.0 BdST

রয়টার
টাইটানিক। শুধু নামটিতেই আছে এক বিশালতার অনুভব। এই নাম শুনলেই চোখে ভাসে দুইশ ৭০ মিটার দৈর্ঘের এক বিরাট জাহাজের কথা, যেটির সাথে মিশে আছে এক করুণ ইতিহাস।

টাইটানিক জাহাজের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯০৯ সালের ৩১ মার্চ উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে। এটি ছিল সে সময়ের বিখ্যাত হোয়াইট স্টার লাইনের বিলাসবহুল বৃহত্তম জাহাজের একটি।

জাহাজটি নির্মাণ খরচ ছিল প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার যা বর্তমানের ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। তিন বছর সময় লাগে এটা তৈরি করতে। 

টাইটানিক ফ্যাক্টসে ডট নেট-এর তথ্য অনুসারে প্রাথমিকভাবে জাহাজটি প্রথম যাত্রা করেছিল ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল, আয়ারল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে।

১৯১২ সালের ১২ এপ্রিল এটি  যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের দিকে পাড়ি জমায়। জাহাজটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার জন। প্রথম যাত্রায় যাত্রী সংখ্যা ছিল দু হাজার দুইশ ২৪ জন।

নিউয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর চতুর্থ দিনের মাথায় ছশ কিলোমিটার পার হওয়ার পর ১৪ এপ্রিল রাত ১১ টা ৪০ মিনিটে এটি একটি বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা খায়। ফলে এর ১৬ টি পানিরোধক কম্পার্টমেন্টের পাঁচটিই পানিতে ডুবে যায়। অথচ এর সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ছিল চার কম্পার্টমেন্ট পর্যন্ত। ফলে ধীরে ধীরে জাহাজটি ডুবতে শুরু করে। বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা খাওয়ার পর তলিয়ে যেতে দু ঘন্টা ৪০ মিনিট সময় লাগে। এরপরে হারিয়ে যায় সমুদ্রের অতল গভীরে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৫০০ যাত্রী মারা যান। কেননা সেখানে তখন সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল মাইনাস দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭০০ জন যাত্রী বেঁচে ফেরেন। এটি সে সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার একটি।  

১৯৮৫ সালে সাইড-স্ক্যান সোনার পদ্ধতিতে ১৯১২ সালের ডুবে যাওয়া জাহাজটির খোঁজ পাওয়া যায়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় ৩৮০০ মিটার নিচে এই জাহাজটি সমাহিত আছে।

টাইটানিক ডুবেছে ১০৫ বছর হয়েছে। তবুও যেন নানান কারণে এই দুর্ঘটনার রহস্য আজও রহস্যে মোড়া।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের পরিচালনায় নির্মিত হয় ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্র।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত